শনিবার

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯ কার্তিক, ১৪৩৩

অরুণাচল সীমান্তে ৭ কিলোমিটার ভেতরে চীনা সেনাদের অবস্থান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫১

শেয়ার

অরুণাচল সীমান্তে ৭ কিলোমিটার ভেতরে চীনা সেনাদের অবস্থান
ছবি সংগৃহীত

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রেখার ধারণা অনুযায়ী প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে তাঁবু গেড়ে অবস্থান নিয়েছে চীনা সেনারা। দুই দেশের সেনাদের মধ্যে একাধিক পয়েন্টে সংঘাত ও মুখোমুখি অবস্থান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

উচ্চপদস্থ সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের শেষদিক থেকে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং সার্কেলের আসাফিলা এলাকায় দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়ায়। চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ভারতীয় সীমান্ত রেখার ধারণা অনুযায়ী প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থান নিয়ে তাঁবু স্থাপন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতও সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে।

চলতি বছরে ভারতের সভাপতিত্বে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যোগদান এবং দুই দেশের মধ্যে একাধিক দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। এসব বৈঠকের মধ্যে আগস্টে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন অন ইন্ডিয়া-চায়না বর্ডার অ্যাফেয়ার্সের (ডব্লিউএমসিসি) বৈঠক, বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠক এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতে অরুণাচলের বাচা-দামাই সীমান্ত পয়েন্টে প্রথমবারের মতো কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাজস্থানের আলোয়ারে এক অনুষ্ঠানে অবসরগামী আইটিবিপি প্রধান শত্রুজিৎ কাপুর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষায় ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

কাপুরের মতে, চীনের সামরিক আধুনিকায়নের অগ্রগতির কারণে দেশটিকে মোকাবিলায় পুরোনো কৌশলের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেন ও ইরানের ড্রোন ব্যবহারের কৌশলের উদাহরণ তুলে ধরেন।

আইটিবিপি মহাপরিচালক আরও জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন সীমান্তের প্রতিটি ফরোয়ার্ড পোস্টে মাটির নিচে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধকৌশলে মাটির ওপরের স্থাপনা সহজেই লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে মাটির নিচে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু