তিউনিসিয়ায় পুলিশের হাতে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানী তিউনিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। দেশটির চলমান অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
রাজধানীর উপকণ্ঠ ইততাদামেনে মাদক ব্যবসার সন্দেহে আটক এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদক গিলে ফেলার পর ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করেন, টায়ারে আগুন দেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ওই এলাকার একটি জাতীয় রক্ষীবাহিনীর স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
এদিকে, দেশটির স্ফাক্স প্রদেশের জেবিনিয়ানা শহরেও এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। নিহত ব্যক্তির স্বজনদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি গাড়িতে আগুন দেন এবং টায়ার পোড়ান। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
অন্যদিকে, উপকূলীয় শহর স্ফাক্সে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত এক ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে দেরি হয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্ফাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তিউনিসিয়ায় জীবনযাত্রার অবনতি ও সরকারি সেবার দুরবস্থা নিয়েও মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের ঘটনাগুলো দেশজুড়ে আরও বড় ধরনের সহিংস বিক্ষোভের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীতে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের বিরুদ্ধে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র দুর্বল করা এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।
এদিকে, বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির একটি সামরিক আদালত বিরোধী রাজনীতিক ওলফা হামদিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং সামরিক বাহিনীকে আদেশ অমান্যে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে দণ্ডিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট সাঈদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।
আরও পড়ুন:







