বৃহস্পতিবার

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ৭ কার্তিক, ১৪৩৩

এবার দিল্লিতে ৭০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদের প্রক্রিয়া, মসজিদেও নোটিশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০

আপডেট: ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০৩

শেয়ার

এবার দিল্লিতে ৭০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদের প্রক্রিয়া, মসজিদেও নোটিশ
ছবি সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদসংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০০টি পরিবারের ঘরবাড়ি উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রায় সবাই সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, মসজিদের সামনের কয়েকটি স্থাপনা ইতোমধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইটের স্তূপ ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মসজিদের আশপাশের জরুরি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়ে উচ্ছেদের নোটিশ টাঙানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এলঅ্যান্ডডিও) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনসংলগ্ন ওই মসজিদের জমিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে দাবি করছে। সেখানে অননুমোদিত নির্মাণ ও দখলকে আইনত অপরাধ উল্লেখ করে নোটিশ টাঙানো হয়েছে। নোটিশ কার্যকরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় গণপূর্ত বিভাগকে (সিপিডব্লিউডি)।

নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই এলাকাটিতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে তুঘলক রোড থানার পুলিশ ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, বাসিন্দাদের জন্য মূল এলাকা থেকে ১৫ থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে মুন্ডকা এলাকায় বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত এবং গ্রেড-২ ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে তালিকাভুক্ত রেস কোর্স মসজিদের ইমাম জানিয়েছেন, মাত্র ছয় দিনের নোটিশে তাঁদের জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনি পদক্ষেপের জন্য তিনি দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের কাছে আবেদন করলেও কোনো সহায়তা পাননি বলে দাবি করেছেন।

এদিকে, এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকার মধ্যেও কয়েকজন মুসল্লি মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন। তাঁরা প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে ধর্মীয় অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন।

সমালোচকদের অভিযোগ, ভারতের আগামী নির্বাচনগুলো সামনে রেখে বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বসতি, দোকানপাট ও ধর্মীয় উপাসনালয় লক্ষ্য করে প্রশাসনিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

সম্প্রতি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার বনভূমি দখলমুক্ত করার নামে তিনটি জেলায় ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এক সপ্তাহে ৬৩৮ হেক্টরের বেশি জমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে এক হাজারের বেশি মুসলিম পরিবারকে ভিটাছাড়া হতে হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গেও মুসলিম-অধ্যুষিত একটি কলোনিতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

দিল্লি ও আসামের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও ছাত্রসংগঠন। তাদের অভিযোগ, উচ্ছেদের নামে প্রশাসন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।