বুধবার

২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৬ কার্তিক, ১৪৩৩

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৩৫

আপডেট: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৪৪

শেয়ার

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি
ছবি সংগৃহীত

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতের সংকটকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভের জেরে রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে আংশিক ও এলাকাভিত্তিক কারফিউ জারি করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু স্থানীয় প্রশাসনকে এই নির্দেশ দেন। বিক্ষোভের সময় দোকানপাটে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্যারিসসহ কয়েক শহরে কারফিউ

প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপুবলিক এলাকা এবং লে আল শপিং এলাকার আশপাশে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর ছিল। পাশাপাশি, ওই দিন রাত আটটা থেকে শহরজুড়ে সব ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে পুলিশ। এছাড়া লিওঁ, নিস, কুলেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লিলসহ কয়েকটি এলাকার নির্দিষ্ট স্থানেও কারফিউ জারি করা হয়েছে। কিছু এলাকায় বিশেষভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

সপ্তাহান্তের এই সহিংসতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তবে সোমবার (১৯ অক্টোবর) তার সেই পদত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। এলিসি প্রাসাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নুনেজকে দায়িত্বেই বহাল থাকতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তৎপরতায় যেসব ঘাটতি ছিল, তা খতিয়ে দেখে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, শনিবার (১৭ অক্টোবর) কয়েকটি বড় শহরে শত শত দোকানে লুটপাটের পর দোকানমালিকদের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশ যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল, তা দাবি করা সম্ভব ছিল না। নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রেও আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।

আটক ও আহতের সংখ্যা

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) এর বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে দুই হাজার তিনশ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেনদার্ম। ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশের গ্রেনেড বিস্ফোরণে এক বিক্ষোভকারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া রবিবার (১৮ অক্টোবর) ও রাতভর প্যারিসে প্রায় সাড়ে তিনশ জনকে আটক করা হয়।

আন্দোলনের বিস্তার ও নতুন ডাক

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবার মান নিয়ে বৃহত্তর রূপ নেয়। পাঁচ লাখের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে হওয়া এই বিক্ষোভে মুখোশধারী ব্যক্তিরা নগর ভবন ও পুলিশ স্টেশনের মতো সরকারি স্থাপনায় হামলা চালান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের আলোচিত ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে। দুর্বল অর্থনীতি ও বাড়তে থাকা সরকারি ঋণের চাপের মুখে আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) নতুন করে আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কায় দেশটিতে অতিরিক্ত সতর্কাবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।