মঙ্গলবার

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫ কার্তিক, ১৪৩৩

সুদানে ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত, উদ্বেগ জাতিসংঘের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩৯

শেয়ার

সুদানে ড্রোন হামলায় ১৬০ জনের বেশি নিহত, উদ্বেগ জাতিসংঘের
ছবি সংগৃহীত

সুদানে সাম্প্রতিক একাধিক ড্রোন হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চিকিৎসাকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে। এসব হামলায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হয়েছেন।

চিকিৎসকদের পাশাপাশি ইমার্জেন্সি লয়ার্স নামের মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী খার্তুমে তিনটি শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ড্রোন হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয়েছে পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরের একটি পরিবহন কেন্দ্রে। বাজার শেষে সেখানে সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই ৮০ জন নিহত হন। আহত ৪৭ জনকে কাছের আল-মুজলিয়াদ শহরে নেওয়া হলে সেখানে আরও ৩০ জন মারা যান।

আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লয়ার্স এ হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে।

অন্যদিকে, নীল নদের পাশের ব্লু নাইল রাজ্যে আরএসএফের পরিচালিত ড্রোন হামলায় ৪১ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে আরেকটি ড্রোন হামলায় আরএসএফের সাত কর্মকর্তাসহ ১৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

ড্রোন হামলার নিন্দা জাতিসংঘের

সুদানজুড়ে অব্যাহত ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক। এসব হামলায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফপ্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এ সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

গৃহযুদ্ধের কারণে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এতে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে চীন ও রাশিয়া এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা