রবিবার

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৩ কার্তিক, ১৪৩৩

পাকিস্তানে প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৭

শেয়ার

পাকিস্তানে প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত
ছবি সংগৃহীত

পাকিস্তানে প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৩২ শতাংশ বর্তমানে কোনো না কোনো মানসিক বা আচরণগত সমস্যায় ভুগছেন। দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত প্রথম বিস্তৃত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, জীবনের কোনো এক সময়ে এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চারটি প্রদেশের প্রায় ১৮ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য সংগ্রহ করে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

পাঁচ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণাকে পাকিস্তানের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত জরিপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি পাঁচজনে একজনের মধ্যে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পিটিএসডির লক্ষণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক বিষণ্নতায় ভুগছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ছয় শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, আগের এক মাসে তাঁদের আত্মহত্যার চিন্তা এসেছিল।

গবেষকদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মানুষের পারিবারিক জীবন, সামাজিক সম্পর্ক ও কর্মক্ষমতায় গুরুতর প্রভাব ফেলছে। জরিপে বয়স্ক ব্যক্তি, কম শিক্ষিত মানুষ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যার হার বেশি দেখা গেছে।

এ ছাড়া বেকার, স্বামী বা স্ত্রী হারানো, বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া কিংবা আলাদা বসবাস করা ব্যক্তিদের মধ্যেও মানসিক সমস্যার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজা উর রহমান। এতে সহযোগিতা করেছে যুক্তরাজ্যের ব্রাইটন অ্যান্ড সাসেক্স মেডিকেল স্কুল, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা এবং পাকিস্তানের কয়েকটি মনোরোগ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। নমুনা নির্বাচন ও জরিপের এলাকা নির্ধারণে সহায়তা করেছে পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরো।

অধ্যাপক রাজা উর রহমান বলেন, পাকিস্তানে কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যনীতি ও সেবা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ জরিপ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এর মাধ্যমে কারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন, কোথায় সহায়তার প্রয়োজন বেশি এবং চিকিৎসাসেবার ঘাটতি কতটা, তা স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, গবেষণার তথ্য মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক নেতিবাচক ধারণা কমাতে এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে।