রবিবার

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৩ কার্তিক, ১৪৩৩

ফ্রান্সের ১৪০ শহরে বিক্ষোভ-দাঙ্গা, গ্রেপ্তার দুই হাজারের বেশি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৫

শেয়ার

ফ্রান্সের ১৪০ শহরে বিক্ষোভ-দাঙ্গা, গ্রেপ্তার দুই হাজারের বেশি
ছবি সংগৃহীত

জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। দেশজুড়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এ তথ্য জানিয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিক্ষোভে ৬০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য, জেন্ডারমেরি বাহিনীর সদস্য ও অগ্নিনির্বাপণকর্মী আহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া কয়েক শ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শনিবার দুপুরের আগেই ফ্রান্সের প্রায় ১১০টি স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজধানী প্যারিসসহ লিওঁ, নঁত ও রেনের মতো বড় শহরগুলোতে ব্যাপক মিছিল বের হয়। গত মাসে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ইতোমধ্যে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন।

মার্সেই, লিওঁ ও প্যারিসে সংঘর্ষ

ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইসহ কয়েকটি শহরে পুলিশ ও দাঙ্গাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মার্সেইতে বিক্ষোভকারীদের একটি দল কিছু সময়ের জন্য সিটি হলে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক মারিয়ানের একটি আবক্ষ মূর্তি ভেঙে ফেলে। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

লিওঁ শহরে দাঙ্গাকারীরা একটি পর্যটন তথ্যকেন্দ্রে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের অনেকের পরনে ছিল কালো পোশাক। মুখে ছিল মাস্ক এবং চোখে সুরক্ষাচশমা।

অন্যদিকে, প্যারিসে হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেন। তবে কেন্দ্রীয় প্লাস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরে কয়েক শ বিক্ষোভকারীর সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ব্যয় সংকোচনের বাজেট ঘিরে উত্তেজনা

প্রায় এক দশক আগে ফ্রান্সে জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে সড়কে নেমে আলোচনায় এসেছিল ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট থেকেও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্স সরকার ব্যয় সংকোচনমূলক বাজেট পাসের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আগামী বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকার স্বীকার করেছে, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি যৌক্তিক। তবে তারা নগর সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে। বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য বামপন্থী রাজনৈতিক দল ফ্রান্স আনবোডকে দায়ী করেছে সরকার। দলটি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও আনাদোলু এজেন্সি।