কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম নতুন ধরনের নির্ভুল নিশানাভিত্তিক টর্পেডো ব্যবস্থা পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশটি যখন ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র পরীক্ষা বাড়াচ্ছে, তখন এ ঘোষণা এল।
এর কয়েক দিন আগে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছিল, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণ নিয়ে কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার মধ্যে তারা একটি সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা পাঠিয়ে সহায়তা করার বিনিময়ে মস্কোর কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের কারণে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রপ্রযুক্তির উন্নয়ন দ্রুততর হয়ে থাকতে পারে।
জাম-২.০ টর্পেডোর পরীক্ষা
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, সুপার-স্পিড জাম-২.০ টর্পেডো ব্যবস্থার পানির নিচে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ বৃহস্পতিবার করা হয়। অস্ত্রটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সফল হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়।
কেসিএনএর তথ্য অনুযায়ী, নতুন ধরনের সুপার-স্পিড নির্ভুল নিশানাভিত্তিক টর্পেডোর লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও দিকনির্দেশনার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পরীক্ষায় প্রপালশনের কার্যকারিতা এবং রকেটচালিত প্রপালশন যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি যাচাই করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এ ধরনের বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে ১৮০টিরও বেশি পরীক্ষা সম্পন্ন করার কথাও জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রেও এআই ব্যবহারের দাবি
চলতি মাসের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় একটি মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘোষণা দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।
সে সময় পিয়ংইয়ং দাবি করেছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করার কোনো উপায় নেই। দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি কম উচ্চতায় উড্ডয়নপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম।
টর্পেডো পানির নিচে থাকা প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চগতিতে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অস্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করলে লক্ষ্যবস্তু এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নির্ধারণ এবং প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার জন্য স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন:







