ভারতের রাজনীতিতে কি এবার বড় কোনো বড় বিপদ ঘটতে চলেছে? একদিকে দিল্লির রাস্তায় সাধারণ ছাত্র আর তরুণদের জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের বড় হিরো থালাপতি বিজয় সোজা মোদি সরকারের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। রাহুল গান্ধীর সাথে হাত মিলিয়ে বিজয়ের এই লড়াই আর দিল্লিতে ছাত্র নেতাদের জেলে ভরার ঘটনায় এখন সবার একটাই কথা, তবে কি মোদি সরকারের দিন শেষ হয়ে আসছে?
দিল্লিতে ছাত্র নেতাদের গ্রেপ্তার
সবচেয়ে বড় ঘটনাটা ঘটেছে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর), দিল্লির রাজধানীতে। সিজিপি দলের একটা প্রোগ্রাম থাকার কথা ছিল কনট প্লেস এলাকায়। কিন্তু প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই দলের বড় নেতা অভিজিৎ দিপকের বাড়ি থেকেই তাকে ধরে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ।
নেতাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর যখন চারদিকে সবাই রেগে আছে, ঠিক তখনই ঘটে আরেক ঘটনা। ওই প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে আন্দোলনের বড় মুখ নেহা বোড়াকেও মাঝরাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই দুজনকে দ্বিতীয়বারের মতো জেলে বা আটকের মতো ঘটনা ঘটল। এর আগেও শনিবার (১০ অক্টোবর) আর রবিবার (১১ অক্টোবর) তাদের একইভাবে ধরে নিয়েছিল পুলিশ। পুলিশ চারদিকে পাহারা বসিয়ে যতই চেষ্টা করুক না কেন, সাধারণ মানুষ ও ছাত্ররা দমে যায়নি। দিল্লির এই ঝামেলার আঁচ এখন বেঙ্গালুরু বা কেরালাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
দক্ষিণে থালাপতি বিজয়ের প্রতিবাদ
উত্তর ভারতে যখন ছাত্রদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখন দক্ষিণ ভারত থেকে মোদি সরকারের জন্য এল সবচেয়ে খারাপ খবর। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে এবার যোগ দিয়েছে দক্ষিণী সিনেমার বড় সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের দল ‘টিভিকে’। কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসা পাওয়া এই হিরো শুধু মুখে সমর্থন করেই থেমে থাকেননি, কংগ্রেসের সাথে হাত মিলিয়ে নিজের দলকেও সোজা রাজপথে নামিয়ে দিয়েছেন।
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) থালাপতি বিজয়ের দল কংগ্রেসে যোগ দেয়। এরপর শনিবার (১০ অক্টোবর) চেন্নাইতে কংগ্রেসের বড় নেতা রাহুল গান্ধীর সাথে গোপন মিটিং করেন বিজয়। আর সেই মিটিংয়ের মাত্র কদিন পরে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চেন্নাইয়ের রাস্তায় হাজার হাজার লোক নিয়ে বিশাল মিছিল করে বিজয়ের দল। সেই মিছিল থেকে কংগ্রেস এবং বামপন্থীরা সবাই মিলে এক হয়ে লড়াইয়ের ডাক দেয়। শুধু তাই নয়, দিল্লিতে ছাত্রদের ওপর পুলিশের এই মারধর ও আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক
কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন ভারতের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে এই আগুন ছড়িয়ে পড়েছে? কেন ছাত্র থেকে শুরু করে হিরো বিজয় আর রাহুল গান্ধী সবাই রাস্তায়?
এর মূল কারণ হলো, ভোটের তালিকা নিয়ে বিশাল এক গোলমাল। আন্দোলনকারী ছাত্র ও বিরোধীদের পরিষ্কার দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এখনই পদ ছাড়তে হবে এবং ভোটার তালিকা নিয়ে যে ‘এসআইআর’ ঝামেলা চলছে, তা বন্ধ করতে হবে।
আর বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই ঝামেলার আড়ালে খুব চালাকি করে লাখ লাখ গরিব মানুষ, তরুণ ও মুসলিমদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ভোটার লিস্ট থেকে তাদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।
যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার লিস্ট ঠিক করার জন্যই নাকি এই কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ আর বিরোধীরা তা মানতে নারাজ। আর তাই শুধু রাস্তায় স্লোগান দিয়েই থেমে থাকেনি থালাপতি বিজয়ের দল; এই অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে তারা সোজা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে দিয়েছে। চেন্নাইয়ের মিটিং থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত রাজপথ আর আদালত দুই জায়গাতেই লড়াই চলবে।
একদিকে দিল্লিতে তরুণ নেতাদের বারবার ধরে নিয়ে গিয়েও তারুণ্যের জেদ কমানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর সাথে হাত মিলিয়ে দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের রাস্তায় ও সুপ্রিম কোর্টে নেমে পড়া, দিল্লির সরকারের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে এই আন্দোলন যেভাবে বাড়ছে, তাতে সরকারের কপালে বড় চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেছে।
আরও পড়ুন:







