শনিবার

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২ কার্তিক, ১৪৩৩

দিল্লিতে আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎকে মুক্তির নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১৭

শেয়ার

দিল্লিতে আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎকে মুক্তির নির্দেশ
ছবি সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে আটকের এক দিন পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার দিল্লির একটি আদালত এ নির্দেশ দেন। মুক্তির জন্য তাকে ৫০ হাজার রুপির বন্ড জমা দিতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবেন না মর্মে অঙ্গীকার করতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিজিৎ। লেহরা দো তিরঙ্গা নামে পরিচিত এ কর্মসূচি নির্বাচনি জালিয়াতির অভিযোগে চলমান প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই তাকে আটক করে পুলিশ।

অভিজিতের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকেও শুক্রবার আটক করা হয়েছিল। শনিবার ভোরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিজিৎকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল বিক্ষোভকারীদের। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাদের আগাম আটক করা হয়। তবে পুলিশি বাধার মধ্যেও শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি ছোট মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

দিল্লি পুলিশ আইনের আওতায় আটকের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নেহা বোরাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অভিজিতের বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজের ভেতর থেকে অভিজিৎকে আটক করা হয়েছিল। সে সময়ও শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়। ওই মামলায় এক বছরের জন্য শান্তি বিঘ্নিত করবেন না মর্মে অঙ্গীকারনামায় তাকে স্বাক্ষর করতে হয়েছিল।

মুক্তি পাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন নেহা বোরা। এসব আটকের ঘটনাকে অবৈধ বলে অভিহিত করেন তিনি। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাকে কারাগারে পাঠানোরও দাবি জানান নেহা।

দিল্লি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়। এ সময় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক ঘিরে রাখে নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। আশপাশের এলাকাতেও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।