বৃহস্পতিবার

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আট অঙ্গরাজ্যের মামলা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০২

আপডেট: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১০

শেয়ার

চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আট অঙ্গরাজ্যের মামলা
ছবি সংগৃহীত

কিশোরসহ ব্যবহারকারীদের আত্মহানি ও অন্যের ক্ষতি করার মতো বিপজ্জনক কাজে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি অঙ্গরাজ্য। মামলাগুলোতে চ্যাটবটটির নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা এবং ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা নিজ নিজ আদালতে পৃথকভাবে মামলাগুলো করেন। মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো হলো আইওয়া, কানসাস, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, আইডাহো, মন্টানা, নেব্রাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া।

মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য চ্যাটজিপিটিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি সব সময় ব্যবহারকারীর সঙ্গে একমত হয় এবং কথোপকথন চালিয়ে যেতে আগ্রহী থাকে। এর ফলে চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীদের ভুল ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে, বিপজ্জনক আচরণে উৎসাহ দেয় এবং বড় ধরনের বন্দুক হামলার পরিকল্পনা করতেও সহায়তা করে বলে দাবি করা হয়েছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তা সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে ওপেনএআই ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি, বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে প্রতিষ্ঠানটি জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো আদালতের কাছে এমন নির্দেশনা চেয়েছে, যাতে ওপেনএআইকে চ্যাটজিপিটির কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করা যায়। তাদের অন্যতম দাবি, মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি থেকে বিরত রাখতে হবে। এ ছাড়া অঙ্গরাজ্যগুলোর আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ওপেনএআইয়ের কাছ থেকে আর্থিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণও চাওয়া হয়েছে।

এআই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আট অঙ্গরাজ্যের সমন্বিত এই আইনি পদক্ষেপকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতির মধ্যেই ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি চ্যালেঞ্জ আসছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

এর আগে গত জুনে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল চ্যাটজিপিটির শিশু নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে প্রথম মামলা করেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত বাদীদের করা আরও কয়েক ডজন মামলার মুখেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের বড় ধরনের বন্দুক হামলা ও অন্যান্য সহিংসতার পরিকল্পনা করতে সহায়তা করেছে।

সূত্র: রয়টার্স