ভারতে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ুক কিংবা ক্ষমতার সমীকরণে আসুক নতুন কোনো পরিবর্তন—দিন শেষে তার মাশুল যেন দিতে হয় মুসলমানদেরই। ভোটার তালিকা সংশোধনবিরোধী আন্দোলনে যখন উত্তাল ভারতের রাজনীতি, ঠিক তখনই উত্তর প্রদেশের বিজনরে উচ্চস্বরে আজান দেয়ার অভিযোগে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশ-বিদেশে নতুন করে জন্ম দিয়েছে চরম বিতর্ক।
জানা গেছে, উত্তর প্রদেশের বিজনরে উচ্চস্বরে আজান দেয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু গ্রেপ্তারই নয়, জব্দ করা হয়েছে মসজিদের মাইকও।
আজানের শব্দ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি শোনার অভিযোগে জেলার ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের নির্দেশে নেয়া হয় এই পদক্ষেপ। পরে সেই মুয়াজ্জিনকে কারাগারে পাঠানো হয় বলেও জানা যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, শনিবার (১০ অক্টোবর), উত্তর প্রদেশের বিজনর জেলার নাজিবাবাদে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, শব্দ নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানা যায়।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই নিয়ম লঙ্ঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সেই পুলিশ কর্মকর্তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
তবে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি প্রশ্ন—ভারতের রাজনীতির এমন উত্তাল পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই আকস্মিক পদক্ষেপের পেছনের কারণ আসলে কী?
মোদি সরকারের চাপ
ভারতের মোদি সরকার এখন যেন উত্তপ্ত আগ্নেয়গিরির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। একদিকে বিরোধী দলের চাপ, অন্যদিকে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। একের পর এক কর্মসূচিতে চরম সংকটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের বিপরীতে নিজেদের সমর্থন বাড়াতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীকে নিজের দলে ভেড়ানোর জন্যই মুসলিমদের নতুন করে টার্গেট করে এই অপকৌশল নিয়েছেন মোদি।
সেই সঙ্গে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা বাধিয়ে আন্দোলনকে লন্ডভন্ড করার জন্য মোদি, হিন্দু রক্ষা দলের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সদস্যদের মুসলিম সাজিয়ে নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নেহা বোরার নেতৃত্ব
এদিকে, ভারতের চলমান আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় মুখ হয়ে উঠেছেন নেহা বোরা। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এই নেত্রী ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান এই আন্দোলন নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন নেহা বোরা। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জেন-জিদের কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছে ভারতের তরুণরা।
একদিকে ভোটার তালিকা সংশোধনবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ভারতের রাজপথ, অন্যদিকে মুসলিমদের টার্গেট করে মোদি সরকারের ফের নতুন চাল—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ভারতের রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। তবে কি এবারও পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন নরেন্দ্র মোদি, নাকি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চাপে নতুন রাজনৈতিক সংকটে পড়বে তার সরকার? সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
আরও পড়ুন:







