শুক্রবার

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১ কার্তিক, ১৪৩৩

তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা কী, কেন রাস্তায় ভারতের ভোটাররা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩০

শেয়ার

তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা কী, কেন রাস্তায় ভারতের ভোটাররা
ছবি সংগৃহীত

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার ঘটনা ঘিরে বিতর্ক ও বিক্ষোভ জোরালো হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, মৃত ব্যক্তি ও একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন বাদ দেওয়ার নামে বহু বৈধ ভোটারের নামও তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। এতে বিশেষ করে মুসলিম, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের ভোটাধিকার এবং নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এই সংশোধন করা হচ্ছে।

গত বছর শুরু হওয়া এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংখ্যাটি জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। ভারতের স্বাধীনতার পর এত অল্প সময়ে ভোটার তালিকা থেকে এত বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার নজির নেই বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি সরকার এসআইআরকে ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করার বৈধ প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছে। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে মৃত ব্যক্তি ও একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির আড়ালে বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, মুসলিম, অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, দরিদ্র ও নিম্নবর্ণের মানুষ এই প্রক্রিয়ায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ভোটাধিকার হারিয়ে বাংলাদেশে আটকে নারী

পশ্চিমবঙ্গের একটি ছোট গ্রামে জন্ম নেওয়া শাহিদা ফকির ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে জন্মসনদ, পারিবারিক জমির মালিকানার নথি এবং বাবা-মায়ের ভোটার তালিকায় নাম থাকার প্রমাণ জমা দিয়েছিলেন। এরপরও ভোটার তালিকায় নিজের নাম ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

ফকিরের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার তিন মাস পর পুলিশ তাকে আটক করে। তখন তার করা আপিলের শুনানি চলছিল। এর মধ্যেই তাকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে গত জুলাইয়ে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ফকিরের দাবি, তিনি কখনো বাংলাদেশে যাননি। বর্তমানে সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে আটকে রয়েছেন তিনি। পরিবার ও ভারতে থাকা বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটছে তার।

বাংলাদেশ সীমান্তের একটি গ্রাম থেকে ফকির জানান, ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের সব নথি তার কাছে রয়েছে। পুলিশকে অনুরোধ করেও বাংলাদেশে পাঠানো ঠেকাতে পারেননি তিনি। তার অভিযোগ, পুলিশ তাকে জোর করে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক কর্মকর্তা ফকিরের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, তার নথিপত্র যাচাই করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, তিনি ভারতের নাগরিক।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ফকিরের পরিবার তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। এ বিষয়ে জবাব দিতে ভারত সরকারকে এক মাস সময় দেওয়া হয়।

ফকির বলেন, তিনি নিজের পরিবার ও ভারতে থাকা বাড়িতে ফিরে যেতে চান এবং সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া লাখ লাখ মানুষ নাম পুনর্বহালের জন্য আপিল করেছেন। ফলে ফকিরের আবেদনের শুনানি শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজেদের দেশেই বিদেশি হওয়ার আতঙ্ক

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানুষের মধ্যে নিজেদের দেশেই বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ সরকারি সুযোগ-সুবিধা হারানোরও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ৮০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ সিদ্দিকী জানান, তার দাদা ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। পরিবারের তিন প্রজন্মের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও এসআইআরের পর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তার নিজের নাম। এতে তিনি অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন।

সিদ্দিকী বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় তিনি সব সময় আতঙ্কে থাকেন। তাকে কোনো আটক কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হলে কী হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।

তিনি আরও জানান, এই বয়সে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা ভাবতেও পারেন না। তার পূর্বপুরুষদের সবাইকে ভারতের মাটিতেই সমাহিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

সমালোচকদের মতে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৩ সালে। সে সময় মোদি সরকার নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে। নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগসংক্রান্ত প্যানেলে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কয়েক মাস পর বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও মোদি-নেতৃত্বাধীন প্যানেল জ্ঞানেশ কুমারকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষণা কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ ফেলো রনজয় সেন বলেন, কয়েক দশক ধরে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এর পরের বছর বিহারে এসআইআর কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে ৬০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়ার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে। ওই সংশোধন কার্যক্রমের পর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পায়। তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে নির্বাচনী ফলাফলের সরাসরি সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

গত মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য ১৪টি আপত্তি তুলেছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এককভাবে সেগুলো নাকচ করে দেন বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এরপর এসআইআরবিরোধী আন্দোলন আরও জোরালো হয়।

রনজয় সেনের মতে, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও নাগরিকদের মধ্যে ভোটাধিকার ও নিয়মিত নির্বাচন নিয়ে আস্থা ছিল। এসআইআর সেই আস্থায় আঘাত করেছে।

তিনজন সাবেক নির্বাচন কমিশনারও এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বদলে নাম বাদ দেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় ভোটার তালিকার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত ভোটার নিবন্ধন ফরমে আনা পরিবর্তনগুলোকে ভুল ও বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা অশোক লাভাসা এসআইআর বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। গত মাসে তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষের ওপর একটি অন্যায্য প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

লাভাসার প্রশ্ন, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।

২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা এস ওয়াই কুরেশিও এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, এটি জাতীয় পর্যায়ে হয়রানির একটি প্রক্রিয়া, যার লক্ষ্য ভোটার তালিকা থেকে মুসলিমদের বাদ দেওয়া। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

অভিযোগ অস্বীকার বিজেপির

এসআইআর কার্যক্রমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলটির দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয় ও রাজনৈতিক হতাশা থেকে বিরোধীরা এসব অভিযোগ তুলছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ব্যক্তিরা চাইলে পুনরায় নাম নিবন্ধন করতে পারবেন বলেও জানিয়েছে দলটি।

বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বিরোধীদের অভিযোগকে অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তবে নির্বাচন কমিশনও প্রক্রিয়াটির কিছু সমস্যা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ভোটার তালিকা থেকে অন্য ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে আবেদন জমা দেওয়ার সংখ্যায় সীমা আরোপ করে কমিশন। বৈধ মুসলিম ভোটারদের লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক আপত্তি জমা দেওয়ার অভিযোগের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

দিল্লিতে বিক্ষোভ, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি

এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে দিল্লিতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা। দলটি এসআইআরবিরোধী বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে।

সোমবার বিরোধী দলগুলোও দিল্লিতে মিছিল করে এবং সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়ে কুমারের পদত্যাগ দাবি জানায়। তাদের অভিযোগ, এসআইআরকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে মোদি সরকার নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

পশ্চিমবঙ্গেও এই বিতর্কের প্রভাব পড়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে এবং বেশ কয়েকটি নতুন আটক কেন্দ্র স্থাপন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মুসলিমদের অনেককে এসব অভিযানের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

দিল্লির বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী প্রশান্ত ট্যান্ডনও এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ৩০ বছর ধরে দিল্লিতে বসবাস করা ট্যান্ডন জানান, ভোটার হিসেবে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হলে তিনি বিস্মিত হন।

ট্যান্ডনের বক্তব্য, কেউ তার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ করলে তাকেই তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হাজির করতে হবে। তিনি জানান, তরুণদের পাশাপাশি তিনিও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একজন ভারতীয় নাগরিককে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

এসআইআর নিয়ে বিতর্ক এখন ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না থাকার প্রশ্ন ছাড়িয়ে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সমালোচকেরা বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকার ও বিজেপির বক্তব্য, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এই সংশোধন প্রয়োজন।

এই বিতর্কের মধ্যে শাহিদা ফকিরের মতো মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। নাগরিকত্বের নথি থাকার দাবি সত্ত্বেও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য দেশে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা তার কাছে ভোটাধিকার হারানোর চেয়েও বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।