মঙ্গলবার

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২৮ আশ্বিন, ১৪৩৩

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে উত্তাল ভারত পতন ঘনিয়ে আসছে মোদির?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:০৩

শেয়ার

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে উত্তাল ভারত পতন ঘনিয়ে আসছে মোদির?
ছবি বাংলা এডিশন

ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তর এখন যেন জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো উত্তপ্ত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একের পর এক কর্মসূচিতে উত্তাল যন্তর মন্তর। আর এই আন্দোলন ঘিরেই মোদি সরকারের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ!

বিমানবন্দরে নেতাদের আটক

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোটার তালিকা সংশোধনবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিতে বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লিতে আসার পথে ককরোচ জনতা পার্টি—সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৪২৮ ফ্লাইটের ভেতর থেকেই আটক করে দিল্লি পুলিশ।

এ সময় আন্দোলন কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করে বিশ্লেষকেরা। তবে আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় মুখদের আটক করা হলেও থেমে থাকেনি প্রতিবাদ। বরং শনিবার (১০ অক্টোবর), রবিবার (১১ অক্টোবর) ও সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার মুখেও ছাত্র-জনতা সমানতালে আন্দোলন চালিয়ে যায়। এছাড়াও দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাও সামনে আসে।

পুলিশি হামলা ও তারকাদের ওপর নির্যাতন

এছাড়া, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর পুলিশি হামলার চিত্রও উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতাকে দিল্লি পুলিশের বেধড়ক মারধর, নারীদের শারীরিক লাঞ্ছনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তার দৃশ্য।

এ ছাড়া আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে আটক ও মারধরের শিকার হন বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাতিজি জাইন মেরি খানও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে নিজের ওপর হওয়া হামলায় শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখান তিনি।

নেহা বোরার উত্থান

অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় তিন নেতা যখন পুলিশের কাছে আটকে, তখনই আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে ওঠেন নেহা বোরা। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক নেহা ভোটার তালিকা সংশোধনবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। আন্দোলন চলাকালে সাধারণ মানুষদের যন্তর মন্তরে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় আহ্বান জানাতেও দেখা যায় তাঁকে।

আন্দোলনের সময় একাধিকবার আটক করা হলেও অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেড়ে দেয়া হয় তাকে। তবে অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীর মতো নেহাও হামলার শিকার হন বলে জানা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও থেকে।

মুক্তির পর প্রতিক্রিয়া

এদিকে পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তির পর নিজেদের আটকের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সাংবাদিকদের সামনে নরেন্দ্র মোদিকে ভীতু বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন বিক্ষোভস্থল নির্ধারণ

এই অবস্থায়, যন্তর মন্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং দিল্লির সিভিডি গ্রাউন্ড নির্ধারণ করে দেয় বলে জানা যায়।

কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা যন্তর মন্তরেই বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে।

এমনকি যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ ব্যারিকেড দিলেও, সেই বাধা টপকে হাতে পতাকা নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে সিজেপির নেতাকর্মীরা। এ সময় ককরোচ জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় তিন নেতাকে পুলিশ আবারও আটক করে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে।

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে মিল

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের কিছু দৃশ্যপটে মিল খুঁজে পাচ্ছে অনেকেই। দুই ক্ষেত্রেই তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, রাজপথে প্রতিবাদ, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া, পুলিশের হামলা ও আটকের ঘটনা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। এই অবস্থায়, হাসিনার মতো মোদিরও পতন ঘটে কি না? সেই জল্পনা কল্পনাও রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।