ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে কাকরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এ সময়ের মধ্যে প্রতিবাদ সভার তারিখ জানানো না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
সোমবার সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস বিক্ষোভের তারিখ নিশ্চিত করতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান।
থানার সামনে সাংবাদিকদের আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, যন্তর মন্তর প্রতিবাদের নির্ধারিত স্থান। সেখানে আন্দোলন আয়োজনের তারিখ জানতে তাঁরা থানায় এসেছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালনা করা যাবে, তা জানাতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান।
ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে সিজেপি। এ নিয়ে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে দলটির নতুন এই আল্টিমেটাম এসেছে।
এর আগে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্মসূচির মাত্র তিন দিন আগে আবেদন করা হয়েছিল, যা বিধিবহির্ভূত। নীতিমালা অনুযায়ী, অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করতে হয়। এ ছাড়া জননিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং আগের আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়গুলোও অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশ।
তবে সিজেপি জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ঘোষিত ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে যেকোনো মূল্যে তারা বিক্ষোভ আয়োজন করতে চায়।
এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ে বলা হয়েছে, আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত বিক্ষোভকারীকে আটক করা যাবে না। তবে ওই রায়ের পরও দিল্লিজুড়ে আন্দোলনকারীদের আটক অব্যাহত রেখেছে পুলিশ বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, পুলিশ প্রায়ই প্রশাসনিক জটিলতা বা অস্পষ্ট আদেশের দোহাই দিয়ে আদালতের নির্দেশনা এড়িয়ে চলে। অতীতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বাতিল হওয়া ৬৬এ ধারা প্রয়োগ এবং গ্রেপ্তারসংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ অমান্য করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি এখনো ঘটছে বলেও তাঁরা দাবি করছেন।
আরও পড়ুন:







