রবিবার

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

আটকের ১৮ ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৫

শেয়ার

আটকের ১৮ ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি
ছবি সংগৃহীত

জার্মানিতে বসবাসরত জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটকের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মুক্তি দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার আবাসিক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোর ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

গুরুগ্রাম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ধ্রুব রাঠির পরিবারের সদস্যরা অপরাধ শাখার কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেই তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, দিল্লিতে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে, এমন কোনো দল বা জনতার সঙ্গে তিনি যুক্ত হবেন না, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ধ্রুব রাঠি জন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আবার আটক করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

বিক্ষোভকারীদের জন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের অভিযানে প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী, আইনজীবী, রাজনীতিক, চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টির নেতারাও রয়েছেন।

তিন মাস আগে শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগে ভূমিকা রাখা ককরোচ জনতা পার্টি এ বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের জন্তর মন্তরে প্রবেশে বাধা দিলেও দিনভর দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ চলে।

বিক্ষোভ ঘিরে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিল্লি বিমানবন্দরে। অবতরণ করা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীরা ককরোচ জনতা পার্টির তিন সদস্য অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করেন। এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো।

পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। একই দিন বিতর্কিত অভিযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ বসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে নতুন করে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।