শনিবার

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

মুকেশ আম্বানিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলে কটাক্ষ মাস্কের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৩

শেয়ার

মুকেশ আম্বানিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলে কটাক্ষ মাস্কের
ছবি সংগৃহীত

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে তিনি আম্বানি ও রিলায়েন্স গ্রুপের বিরুদ্ধে একচেটিয়া বাজার ধরে রাখার অভিযোগ তুলেছেন।

স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী মাস্ক এক পোস্টে লেখেন, প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের প্রকৃত প্রধান, তা বুঝতে না পারায় দয়া করে তাঁর বিনীত ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করবেন। একই পোস্টে তিনি স্টারলিঙ্ককে ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

মাস্কের অভিযোগ, আম্বানি ভারতের জনগণকে একচেটিয়া শোষণের মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। তবে তাঁর এই বক্তব্যের জবাবে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বৈষম্যমূলক নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স নিয়ে মাস্কের প্রশ্ন

মাস্কের দাবি, বিশ্বের অনেক দেশের মতো ভারতের দুর্গম এলাকাগুলোতেও এখনো ইন্টারনেট পৌঁছায়নি। এতে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বৈশ্বিক বাজারে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর মতে, এসব এলাকায় স্টারলিঙ্ক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

গত বুধবার এক্সে এক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষমতাধর ধনকুবের ভারতের জনগণের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশ আটকে রাখছেন। তিনি ঘটনাটিকে ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ বলেও আখ্যা দেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে অনুমোদিত স্টারলিঙ্ক ভারত সরকারের প্রতিটি আইন ও শর্ত মেনে চলার পরও কেন লাইসেন্স পাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, আম্বানিই কি ভারতের মূল নিয়ন্ত্রক।

শুক্রবারের আরেক পোস্টে মাস্ক দাবি করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যম অকার্যকর হয়ে পড়লে স্টারলিঙ্ক জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করেছে। ভারতে সেবাটি চালুর অনুমতি দেওয়া হলে তা বহু মানুষের জীবন রক্ষায় অবদান রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈষম্যের অভিযোগ নাকচ ভারতের

মাস্কের অভিযোগের জবাবে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বলা হয়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈষম্যমূলক আচরণের ইঙ্গিত দিয়ে একটি পোস্ট ছড়িয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সরকার জানায়, স্যাটেলাইট সেবাসহ টেলিযোগাযোগ খাতের সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন অনুমোদন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তাসংক্রান্ত মূল্যায়নপ্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।

লাইসেন্সের দৌড়ে তিন প্রতিষ্ঠান

ভারতে স্যাটেলাইটভিত্তিক বৈশ্বিক মোবাইল ব্যক্তিগত যোগাযোগ (জিএমপিসিএস) লাইসেন্স পাওয়ার দৌড়ে রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের স্টারলিঙ্ক, সুনীল ভারতী মিত্তালের নেতৃত্বাধীন ভারতী-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড।

তিনটি প্রতিষ্ঠানই কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। তবে বাণিজ্যিক সেবা চালু ও তরঙ্গ বরাদ্দের আগে নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলার চূড়ান্ত প্রমাণ দাখিল করতে হবে।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পরই কেবল দেশটিতে বাণিজ্যিক সেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।