ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশ অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তুলেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন দাবি করেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ‘বিদেশি শক্তির ইন্ধনে’ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
শনিবার এক বক্তব্যে নিতিন নবীন বলেন, ভারতে প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন। দেশের উন্নয়নে সবাই সম্মিলিতভাবে অবদান রাখছেন। এর মধ্যেই একটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও গুরুতর পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপির জাতীয় সভাপতি বলেন, ‘আজ দেশে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও গুরুতর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। ১৪০ কোটি মানুষ যেখানে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন এবং দেশের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে অবদান রাখছেন, সেখানে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন হলো- এটা করছে কারা?’
এরপর বিরোধীদের দুটি গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেন নিতিন নবীন। তার দাবি, একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও ‘ইন্ডি অ্যালায়েন্স’; অন্যটির সঙ্গে তিনি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সহযোগী এবং ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) যুক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘এই দুই গোষ্ঠীকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের মানুষ আপনাদের উদ্দেশ্য খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন।
বিক্ষোভ ও বিরোধীদের কর্মকাণ্ডকে ‘অরাজকতার প্রতিযোগিতা’ বলে আখ্যা দেন বিজেপি নেতা। তার অভিযোগ, দেশে কে বেশি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে বিরোধীরা যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
নিতিন নবীন বলেন, ‘আপনাদের এই অরাজকতার প্রতিযোগিতাকে দেশের মধ্যে বেশি অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে- কখনো সফল হবে না।’
বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের সেই রায় মেনে নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু জনগণের রায় মেনে নেওয়া বা তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই রায় মেনে নেওয়া বা তা থেকে শিক্ষা নেয়ার পরিবর্তে আপনারা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেছেন।’
এরপরই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি তোলেন নিতিন নবীন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তারা বিদেশি শক্তির ইন্ধনে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
এদিকে, ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে।
আরও পড়ুন:







