শনিবার

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, প্রস্তুত ১২ বন্দিশিবির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১০

শেয়ার

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, প্রস্তুত ১২ বন্দিশিবির
ছবি সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে নয়াদিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্যের পাশাপাশি প্রায় পাঁচ হাজার সিআরপিএফ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২টি অস্থায়ী বন্দিশিবির।

শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপির মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ ঘিরে গত ২০ জুলাইয়ের ঘটনার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেদিন প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে বিশৃঙ্খলা ও পুলিশের পদক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এর জেরে পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবারের বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট, মেট্রোস্টেশন ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ

বিক্ষোভের বিস্তার ঠেকাতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে দিল্লির যন্তর মন্তর ও এর চারপাশের চার কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় এ পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

সিজেপির কর্মসূচিতে রাজধানী, আশপাশের এলাকা ও অন্যান্য রাজ্য থেকে লোকজনের যোগদান ঠেকাতে নয়াদিল্লির ৪৫টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ২৫০টি ট্রেন।

যন্তর মন্তরে প্রবেশের সড়কগুলোতে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। শেষ দিকের কয়েকটি স্তর ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সেগুলো ভেঙে পার হওয়া কঠিন হয়।

১২টি অস্থায়ী বন্দিশিবির, হোটেল-লজে তল্লাশি

সংবেদনশীল স্থানগুলোতে লাউডস্পিকার বসিয়ে রেকর্ড করা ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হচ্ছে, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। লোকজনকে জমায়েত না হওয়া, স্লোগান না দেওয়া, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না করা এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা না চালানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকেও বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন লজ ও হোটেলে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। অতিথিদের বিক্ষোভে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করতে হোটেল ব্যবস্থাপকদের বলা হচ্ছে। এ ছাড়া এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেওয়া ব্যক্তি ও সম্পত্তির মালিকদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের কাছে বাসা ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংবেদনশীল এলাকায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য

দিল্লি পুলিশ প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব এলাকায় ছয় হাজার ৫০০-এর বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এতে এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত অঞ্চলে পরিণত হবে।

নজরদারি বাড়াতে নয়াদিল্লি জেলার বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সমাবেশসংক্রান্ত অনলাইন পোস্ট ও বার্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া ২০০ জনের বেশি কনটেন্ট নির্মাতা পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভের প্রতিটি ঘটনা নথিবদ্ধ করার উদ্যোগ

সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোতে পুলিশের অসদাচরণ ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় এবারের কর্মসূচিতে প্রতিটি ঘটনা নথিবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।

ঘটনাগুলো বিভিন্ন দিক থেকে ধারণ করতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দায়িত্বে থাকা সদস্যদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ধারণ করতে শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের আশা, এসব ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা, যাচাইযোগ্য প্রমাণের সাহায্যে বিভ্রান্তিকর দাবি মোকাবিলা এবং কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্তে সহায়তা পাওয়া যাবে।

এদিকে দিল্লি পুলিশ একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে। চিঠিতে সব পক্ষকে মানবিকতা ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।