দশকের পর দশক ধরে নিখোঁজ থাকা বিখ্যাত মার্কিন চিত্রশিল্পী গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বির একটি বিরল চিত্রকর্মের সন্ধান মিলেছে। ১৯৫১ সালে আঁকা ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’ নামের এই চিত্রকর্মটি সম্প্রতি নিলামে রেকর্ড ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলারে (প্রায় ১৩ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছে। অথচ কিছুদিন আগেই এক সংগ্রাহক এটি মাত্র ৩০ ডলারে (প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা) কিনেছিলেন।
চিত্রকর্মের বৈশিষ্ট্য
গাঢ় সবুজ পটভূমিতে নানা আকৃতির ঝিনুকের সমন্বয়ে আঁকা হয়েছে ছবিটি। এর একটি অংশ জুড়ে কালচে আবহে ভাসমান অবস্থায় দেখা যায় একটি ঝিনুক। শিল্পবোদ্ধাদের মতে, এই চিত্রে ব্যবহৃত ফাটল ধরা ঝিনুকের মোটিফটি পরবর্তী সময়ে অ্যাবারক্রম্বির বিভিন্ন শিল্পকর্মে বারবার ফিরে এসেছে, যা তার নিজস্ব শৈলীর এক অনন্য স্বাক্ষর।
যেভাবে হারিয়ে যায় ছবিটি
১৯৫২ সালে মিশিগানের কালামাজু শহরের চিকিৎসক ডক্টর জন টি. রেনল্ডসকে চিকিৎসার ফি বা সম্মানী হিসেবে ছবিটি প্রদান করা হয়। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৩ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক, শিকাগো, মিলওয়াকি ও ইভানস্টনের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে ছবিটি প্রদর্শিত হয়। তবে এর পরপরই চিত্রকর্মটি রহস্যজনকভাবে জনসমক্ষ থেকে হারিয়ে যায়।
৭০ বছর পর যেভাবে উদ্ধার
দীর্ঘ ৭০ বছরেরও বেশি সময় পর একেবারে আকস্মিকভাবেই ছবিটির হদিস মেলে। পুরনো ভিনাইল রেকর্ড খুঁজতে কালামাজু শহরের একটি এস্টেট সেলে গিয়েছিলেন এক সংগ্রাহক। সেখানে অবহেলায় পড়ে থাকা ছবিটির পেছনে ‘অ্যাবারক্রম্বি’ নামটি নজরকাড়ে তার। ছবিটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝতে পেরে তিনি কালবিলম্ব না করে মাত্র ৩০ ডলারে তা কিনে নেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, ছবিটি প্রকৃতপক্ষে ডক্টর রেনল্ডসের পরিবারের এস্টেটেরই অংশ ছিল, তবে এর প্রকৃত মূল্য বা ইতিহাস সম্পর্কে হয়তো তাদের কোনো ধারণা ছিল না।
রেকর্ড মূল্যে বিক্রি
ছবিটি হস্তগত হওয়ার পর ওই সংগ্রাহক তা নামী নিলাম সংস্থা ‘ফ্রিম্যান’-এর কাছে হস্তান্তর করেন। নিলামের আগে শিকাগোর ‘বমগার্টনার ফাইন আর্ট রেস্টোরেশন’-এ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ছবিটির সংস্কার করা হয়। শুরুতে ছবিটির আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার থেকে আড়াই লাখ ডলার ধরা হলেও নিলামে শেষ পর্যন্ত তা রেকর্ড ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলারে বিক্রি হয়।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম গার্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বির কোনো চিত্রকর্মের দাম নিলামে ১০ লাখ ডলারের ঘর অতিক্রম করল। শিকাগোর শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন অ্যাবারক্রম্বি। শহরের হাইড পার্ক এলাকায় বসবাসকারী এই শিল্পী সমকালীন জ্যাজ সংগীতচর্চার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৭ সালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
জীবনদশায় প্রাপ্য মূল্যায়ন না পেলেও, তিন দশকেরও বেশি সময় পর মাত্র ৩০ ডলারের চিত্রকর্মটি কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার এই ঘটনা পুরো শিল্পজগতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন:







