ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এ ছাড়া মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে বিধিনিষেধ এবং ৬০টির বেশি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ উপকমিশনারের (ডিসিপি) কার্যালয় থেকে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লি মেট্রো ও রাজধানীতে প্রবেশকারী ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে আদালত মন্তব্য করে, মাছি মারতে কামান দাগা যায় না।
ইন্টারনেট বন্ধের আওতায় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে পড়বে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, গুরুদুয়ারা বাংলা সাহিব, বারাকাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড ও জাংপুরার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
এর আগে গত জুলাইয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের সময়ও কয়েক দিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে আন্দোলনকারী জেন-জি তরুণদের পাশাপাশি বিক্ষোভের ভিডিও ধারণকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে পুলিশের ভাষ্য ছিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এসব স্টেশনের মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, নতুন দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেট।
এ ছাড়া শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নতুন দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা ৬০টির বেশি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় নেওয়া এসব বিধিনিষেধের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার সকালে দিল্লি মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা একটি রিটের শুনানিতে আদালত বলে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে সবকিছু অচল করে দেওয়া উচিত নয়। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় না বলেও মন্তব্য করে আদালত।
আদালত আরও বলে, তরুণ থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষ যাতায়াত করেন এবং সাধারণ যাত্রীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো কিছুর ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা এবং সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
আরও পড়ুন:







