জনপ্রিয়, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। যাকে শুধুমাত্র ইউটিউবেই অনুসরণ করে তিন কোটির বেশি মানুষ। এবার, রাজপথের আন্দোলনেও সরাসরি যুক্ত হয়েছেন এই অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।
ঘোষণা অনুযায়ী রাজপথে নেমে স্লোগানও দিয়েছেন ধ্রুব রাঠী।
ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে রাজপথে আন্দোলন
মূলত, একদিকে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার, অন্যদিকে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে আন্দোলনকারীরা। ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক। আর সেই আন্দোলনেই যুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। সাথে রয়েছেন জনপ্রিয় আরেক অভিনেতা প্রকাশ রাজ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সিজেপির আয়োজনে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় তারা। আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের কারণ
কিন্তু, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এত বিতর্ক কেন? সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এতে প্রকৃত ও যোগ্য ভোটাররাও ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। বিরোধীদের আশঙ্কা, এর রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়ার তথ্য উঠে এসেছে। যদিও বাদ পড়া প্রত্যেকেই যোগ্য ভোটার, এমন নয়। নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত, স্থানান্তরিত, একাধিকবার নিবন্ধিত ও অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করতেই এই প্রক্রিয়া। কিন্তু, এত বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ভোটার যাচাইয়ের নামে কোনো যোগ্য নাগরিক যেন গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না।
নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিয়ে সরব আন্দোলনকারীরা
এই প্রশ্নেই নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব হয়েছে আন্দোলনকারীরা। ধ্রুব রাঠীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। তার বক্তব্য, এটি কোনো সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। অন্যদিকে, প্রকাশ রাজের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছে তাদের নাম পুনর্বহাল করতে হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। বেঙ্গালুরুর কর্মসূচিতে ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’ আয়োজনের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হয়। আন্দোলনের পরিধি বাড়াতে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরেও কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে সিজেপি।
মোদি সরকারের দায় নিয়ে প্রশ্ন
এখন প্রশ্ন, এই বিতর্কের দায় কি এড়াতে পারে মোদি সরকার? নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হলেও, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তৈরি হওয়া সংকটের রাজনৈতিক দায় থেকে সরকারকে মুক্ত রাখা যায় কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে মানুষের আস্থা দুর্বল হলে তার প্রভাব পড়বে পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর। অন্যদিকে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার তালিকা শুদ্ধ করতেই এই উদ্যোগ, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন নাগরিকের ভোট দেয়ার অধিকার নির্ধারিত হয়, সেখানে ভুলের সুযোগ যত কম থাকবে, গণতন্ত্রের ভিত্তিও তত শক্ত হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।
ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজের অংশগ্রহণে আন্দোলনটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এই প্রতিবাদ কতটা জনসমর্থন আদায় করতে পারবে, আর ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর। ভারতের গণতন্ত্রে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটাই, ক্ষমতায় কে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে জনগণ। আর সেই জনগণের প্রত্যেক যোগ্য ভোটারের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে তো? রয়েছে সেই প্রশ্ন।
আরও পড়ুন:







