ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি শেষ করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং তার এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলি নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা হতে পারে।
সম্ভাব্য হামলায় জ্বালানি ও পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরু হলে ইরান শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। এতে ইসরায়েলি নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সুবিধা দিতে পারে এবং প্রচারণার শেষ মুহূর্তে বিরোধীদের আক্রমণ থেকে তাকে রক্ষা করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে ইরানের জ্বালানি খাত, অবকাঠামো ও পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হতে পারে। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকে সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে বৈঠক করেছে। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকের বড় একটি অংশজুড়ে ইরানে সামরিক অভিযান ফের শুরু করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতি পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাল্টা প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দেওয়ার দাবি রয়েছে।
ট্রাম্পের সামনে সব পথ খোলা: হোয়াইট হাউস
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সামনে সব পথই খোলা রয়েছে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের ধসে পড়া অর্থনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিষয়গুলো সহজ পথ অথবা কঠিন পথ—এই দুই উপায়ের যেকোনো একটিতে এগোবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, তিনি সেটিই করবেন বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সামনে সামরিক বিকল্পগুলো তৈরি করে তুলে ধরাই প্রতিরক্ষা দফতরের কাজ।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা চরম হতাশা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তাদের ধারণা, এমন পরিস্থিতি ইরানকে আগেই হামলা চালাতে উৎসাহিত করতে পারে। এর আগে দুবার আকস্মিক হামলার শিকার হওয়া ইরান তৃতীয় কোনো হামলার মুখোমুখি হতে চায় না বলেও তারা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:







