পশ্চিমবঙ্গের মাদরাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে তা পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর ফলে স্কুলের পাশাপাশি মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হবে।
মঙ্গলবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। নবান্নের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছে। তবে এটি কার্যকর করতে বিধানসভায় দুটি পৃথক বিল আনতে হবে।
একটি বিলের মাধ্যমে মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিল করা হবে। অন্যটি হবে স্কুল সার্ভিস কমিশন আইনে সংশোধন আনার জন্য। বিধানসভায় বিল দুটি পাস হওয়ার পর অনুমোদনের জন্য রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে। এরপর গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
এক কাঠামোর আওতায় স্কুল-মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগ
পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন ২০০৮ সালের মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইনের অধীনে ওই বছরের ২২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে ২০০৭ সালে ৬১৪টি মাদরাসাকে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের কাঠামো নির্ধারণে আইনটি করা হয়।
প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় সরকারি স্বীকৃত মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হবে। ফলে স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগ একই কাঠামোর আওতায় আসবে।
চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্কুল ও মাদরাসার জন্য আলাদা পরীক্ষা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। একই নিয়োগ কাঠামোর আওতায় আবেদন ও নিয়োগের সুযোগ থাকবে।
রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের মতে, এতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং আলাদা অবকাঠামো পরিচালনার প্রয়োজন কমবে। তবে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যোগ্যতার শর্ত, বিষয়ভিত্তিক শূন্য পদ ও পরীক্ষার নিয়ম আইন সংশোধন অনুমোদনের পর স্পষ্ট হবে।
নবান্নের ওই কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন ধরনের স্কুলে শিক্ষক নিয়োগকে একটি কাঠামোর আওতায় আনাই সরকারের লক্ষ্য।
অনুমোদনহীন মাদরাসা নিয়ে ব্যবস্থা
সম্প্রতি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর থেকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারের এক রাজ্য, এক শিক্ষা নীতির সঙ্গে এ সিদ্ধান্তও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুযায়ী আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনা এবং উচ্চশিক্ষা প্রশাসনকে আরও সমন্বিত করা।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ২২টি জেলা ও কলকাতাজুড়ে চালানো এক জরিপে ২ হাজার ১৩২টি মাদরাসার যথাযথ সরকারি অনুমোদন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ২ হাজার ৩৯৬টি মাদরাসা প্রয়োজনীয় সরকারি বা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।
যাচাইয়ের পর রাজ্য সরকার ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। আরও প্রায় ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:







