বুধবার

৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩

১০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত, আরও পাঠাতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় মালয়েশিয়া

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩১

শেয়ার

১০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত, আরও পাঠাতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় মালয়েশিয়া
ছবি সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, চলতি বছরে ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে বৈঠকে আরও রোহিঙ্গাকে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তিনি তুলবেন।

মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে আনোয়ার বলেন, দেশটিতে থাকা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। আনোয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, মিন অং হ্লাইংয়ের মালয়েশিয়া সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন। মালয়েশিয়ায় আনুমানিক ২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে।

স্বেচ্ছায় ও পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা

যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের ৫ হাজারের বেশি মানুষকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গত সপ্তাহে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত এই কর্মসূচিকে মালয়েশিয়া সরকার স্বেচ্ছায় ও পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারকে দেওয়া শর্তের মধ্যে প্রথমত রয়েছে নিজ দেশের নাগরিকদের ফেরত নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণের নিশ্চয়তা দেওয়া। তাঁর দাবি, জানুয়ারি থেকে ফেরত পাঠানো ১০ হাজারের বেশি মানুষ সবাই নিজ নিজ সম্মতি দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো মালয়েশিয়ার শরণার্থী পরিস্থিতি সমাধানে কোনো বিকল্প প্রস্তাব দেয়নি। মিয়ানমার সরকার ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এবং মিন অং হ্লাইং তাঁকে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান আনোয়ার।

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ

আং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে নিজের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত এবং দেশটির বিচ্ছিন্নতা কমানোর চেষ্টা করে আসছেন। আনোয়ার জানান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে তাদের দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের নাগরিকদের, বিশেষ করে নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা জাতিগত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গাদের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাব কঠোর হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই গোষ্ঠী সম্পর্কে প্রতিকূল এবং কখনো কখনো ভুয়া দাবিও ছড়িয়ে পড়েছে।

মালয়েশিয়া তার অভ্যন্তরীণ আইনের অধীনে শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে তারা কাজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং গ্রেপ্তার ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আটকের ঝুঁকিতে থাকে। শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় দেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ভূমিকা সরকার পর্যালোচনা করছে।

মঙ্গলবার আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা করবে। তিনি আরও বলেন, দেশের বিষয়াবলি নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া উচিত এবং কারা যোগ্য বা যোগ্য নন, তা কোনো বিদেশি কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন না।