রবিবার

৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না: ইরান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০২

শেয়ার

সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না: ইরান
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত জুনে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতায় উল্লেখিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। রবিবার (৪ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা জানান।

পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া এক প্রস্তাবে জানায়, নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব। কাতারের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন।

গালিবাফ জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট ও দৃঢ়। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে বলেও তিনি জানান।

পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা করবে না তেহরান

রবিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পাওয়ার পর তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের সামগ্রিক অবস্থান ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে। তবে আরও কিছু বিষয় যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো বাকি রয়েছে।

বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলো মোটামুটি তাদের আগের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে। এ পর্যায়ে ইরানের মূল মনোযোগ হরমুজ প্রণালির বিষয়ে। এই জলপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আইএইএর পরিদর্শনের প্রস্তাব দিয়েছে—এমন খবরও অস্বীকার করেন বাঘাই। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা শুরু করেনি তেহরান।

আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানান, বর্তমানে যে নথি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে সাত দিনের একটি বিশ্বাস স্থাপনের প্রক্রিয়ার রূপরেখা রয়েছে। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে জুনে সম্মত হওয়া সমঝোতা স্মারকের একটি উন্নত সংস্করণে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ থাকার কথা রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, মতপার্থক্যের মূল কারণ পরিকল্পনার বিষয়বস্তু নয়; বরং পদক্ষেপগুলো কোন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ইরানের সতর্কতা

রবিবার তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথেই এগোবে বলে আশা করছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান জবাব দিতে প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সূত্র জানায়, ওয়াশিংটন বড় ধরনের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করলে ইরান আরও ব্যাপক ও কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক সমাধানের পথে এগোলে ইরান আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত থাকবে এবং নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে রবিবার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াবে।