রবিবার

৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

ক্ষেপণাস্ত্র নয় ইরানের ক্যানভাসেই ঘায়েল ইসরায়েল

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৫

শেয়ার

ক্ষেপণাস্ত্র নয় ইরানের ক্যানভাসেই ঘায়েল ইসরায়েল
ছবি সংগৃহীত

অস্ত্রের গর্জন, ড্রোনের গুঞ্জন আর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এই নিয়েই কি শুধু একটি যুদ্ধ সীমাবদ্ধ থাকে? নাকি এর অন্তরালে চলে অন্য এক নীরব লড়াই?

তেহরানের দেয়ালে দেয়ালে ব্যঙ্গচিত্র

তেহরানের ব্যস্ত রাজপথ আর প্রধান সড়কগুলো এখন কেবলই চলাচলের পথ নয়, বরং একেকটি মনস্তাত্ত্বিক রণক্ষেত্র। চোখ মেললেই চোখে পড়ে বিশাল আকারের সব বিলবোর্ড। তবে এসব কোনো বিজ্ঞাপনের ছবি নয়, এসব যেন লালিত ক্ষোভ আর রাজনৈতিক বার্তার এক একটি বিস্ফোরক ক্যানভাস।

দেশটির রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র 'ভলিয়াসর স্কয়ার' থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ঝুলছে ব্যঙ্গচিত্র আর প্রতীকী ছবি। প্রতিটি নকশায় অত্যন্ত প্রখরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি ইরানের কঠোর অবস্থান।

বিলবোর্ডে ট্রাম্পের ব্যঙ্গচিত্র

একটি বিলবোর্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অত্যন্ত প্রতীকী উপায়ে পরাস্ত করার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। অন্য একটিতে আঁকা হয়েছে ইরানের সামরিক পরাক্রম ও অপ্রতিরোধ্য শক্তির গর্জন। কেবল সাধারণ মানুষের নজর কাড়াই নয়, বিশ্ব গণমাধ্যমকে নিজস্ব বয়ান বা 'ন্যারেটিভ' জানান দেয়াই এই প্রচারণা যুদ্ধের আসল উদ্দেশ্য।

ডিজাইনারস হাউসের ভূমিকা

কিন্তু কার মস্তিষ্ক থেকে আসছে এসব ধারালো নকশা? কে তৈরি করছে এই ভিজ্যুয়াল ক্যানভাস? উত্তর লুকিয়ে আছে তেহরানের এক বিশেষ শিল্পকেন্দ্রে, 'খানা-ই তারেহান' বা 'ডিজাইনারস হাউস'। সামরিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই এই স্টুডিওর আলো জ্বলে ওঠে। মুহূর্তেই শুরু হয়ে যায় তুমুল আলোচনা ও ব্রেনস্টর্মিং।

স্টুডিওর ব্যবস্থাপক মোস্তফা কাফিয়া জানান তাদের এই রণকৌশলের গোপন প্রক্রিয়া। প্রথমত, চলমান যুদ্ধের পটভূমিতে বিষয়বস্তু নির্বাচন করা হয়। এরপর শিল্পী ও অভিজ্ঞ গ্রাফিক ডিজাইনারদের নিজস্ব চিন্তা, রাগ এবং জাতীয়তাবোধকে এক সুতোয় গেঁথে তৈরি করা হয় চূড়ান্ত ব্যঙ্গচিত্র। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা পৌঁছে যায় তেহরানের বিশাল বিশাল সব বিলবোর্ডে।

মিডিয়া পর্যবেক্ষণ দল

তবে এই স্টুডিও কেবল ছবি একেই ক্ষান্ত থাকে না। 'ডিজাইনারস হাউস'-এর রয়েছে একটি নিজস্ব মিডিয়া পর্যবেক্ষণ দল। যুদ্ধের ময়দানে যখন ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়া উড়ছে, তখন এই দল নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশ্লেষণ করে চলেছে বিশ্বজনমত ও প্রচারণার ধরন।

একদিকে যখন কামান ও ড্রোনের রক্তক্ষয়ী লড়াই চলছে, অন্যদিকে তখন তেহরানের দেয়ালে দেয়ালে ভিজ্যুয়াল বার্তার মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সংঘাতের এই নতুন সমীকরণে শত্রুকে ঘায়েল করতে তারা বেছে নিয়েছে ক্যানভাসকেই।