রবিবার

৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

বিরোধীদের আন্দোলনে আবারও উত্তাল দিল্লির রাজপথ

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৩

শেয়ার

বিরোধীদের আন্দোলনে আবারও উত্তাল দিল্লির রাজপথ
ছবি সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি এখন যেন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। যে নির্বাচন কমিশনের ওপর দেশের কোটি কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব, এখন সেই প্রতিষ্ঠানটিই দাঁড়িয়ে আছে চরম বিতর্কের কাঠগড়ায়।

ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এখন উত্তপ্ত দিল্লির রাজপথ।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে বিতর্ক

লাখো ভোটারের নাম গায়েবের পর, এই ক্ষোভের দাবানল হঠাৎ করেই জ্বলে ওঠেনি। বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত মাসে, যখন ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ একটি বিস্ফোরক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া’র আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশলে ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক দেশে নিজের ভোটাধিকার হারানো যেকোনো নাগরিকের জন্যই চরম উদ্বেগের বিষয়। স্বাভাবিকভাবেই এই খবর প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে এক বিবৃতিতে অভিযোগটি অস্বীকার করে দাবি করে, প্রতিবেদনে সামগ্রিক চিত্রের কেবল একটি খণ্ডিত অংশ তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল বিতর্কের পরও খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রহস্যজনকভাবে মুখে কুলুপ এঁটে আছেন। তার এই নীরবতা বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে ভারতে।

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ও ধরপাকড়

হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং সিইসির পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক ছিল এবং তারা এই কর্মসূচির কোনো অনুমতি দেয়নি। কিন্তু পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই সেখানে জড়ো হতে শুরু করে হাজার হাজার মানুষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রশাসন পুরো এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিটে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা ঘিরে ফেলা হয় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে এবং বসানো হয় ব্যারিকেড।

বিক্ষুব্ধ জনতা যখন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে এগোতে চায়, তখনই শুরু হয় ব্যাপক ধরপাকড়। আন্দোলনস্থল থেকে একে একে আটক করা হয় পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভরত মানুষকে। পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেত্রী আতিশী, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজসহ বিরোধী শিবিরের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে।

ককরোচ জনতা পার্টির একাত্মতা

এই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনীতি ও সংগঠনের পাশাপাশি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও একাত্মতা ঘোষণা করে রাজপথে নেমেছে, যা এই বিক্ষোভে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করেছে।

পুলিশি ধরপাকড় আর ইন্টারনেট বন্ধ করেও প্রতিবাদের এই কণ্ঠস্বর রোধ করা যাচ্ছে না। বরং নির্বাচন কমিশনের অনড় অবস্থান এবং শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায়, কংগ্রেসসহ ভারতের বর্তমান বিরোধী দলগুলো এখন আরও বেশি সংঘবদ্ধ। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা আগামী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সরাসরি দিল্লির নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে এক বিশাল পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভোটাধিকার আদায়ের এই লড়াই দিল্লির রাজনীতিকে আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।