শনিবার

৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩

১০ অক্টোবর দিল্লিতে নতুন আন্দোলনের ডাক ককরোচ জনতা পার্টির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬

শেয়ার

১০ অক্টোবর দিল্লিতে নতুন আন্দোলনের ডাক ককরোচ জনতা পার্টির
ছবি; সংগৃহীত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সারা দেশের জেন জি বা তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে দিল্লি অভিমুখে মার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামের এই নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন দলটির নেতারা।

শুক্রবার রাতে মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে এই ঘোষণা দেন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজিপি-র নেতা অভিজিৎ ডিপকে।

এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সারা ভারত থেকে ‘ককরোচ’ বা তরুণরা দিল্লিতে মার্চ করবে এবং আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করবে।

তিনি আরও জানান যে এটি সম্পূর্ণ অহিংস আন্দোলন হবে এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান এমন প্রতিটি নাগরিকের এতে যোগ দেওয়া উচিত।

এর আগে, শিবাজি পার্কের সমাবেশে বক্তৃতা করার সময় ডিপকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলন হবে। পুলিশ এই ইভেন্টের অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও দুপুরের তীব্র গরম এবং ব্যারিকেড উপেক্ষা করে মধ্য মুম্বাইয়ের ওই সমাবেশে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী যোগ দেন।

সিজিপি নেতা আজিঙ্কিয়া শিন্ডে তার বক্তব্যে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে এবং ফৌজদারি কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা স্থগিত করা এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের প্রক্রিয়া সংজ্ঞায়িতকারী ২০২৩ সালের আইন বাতিলেরও দাবি জানান।

শিবাজি পার্কের ভিড়ের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে অভিজিৎ ডিপকে দাবি করেন, ভোট মুছে ফেলার পর বিজেপি এমন সব রাজ্যে জয়লাভ করেছে যেখানে খোদ নরেন্দ্র মোদির হাওয়া তুঙ্গে থাকার সময়ও তারা জিততে পারেনি। তিনি বলেন, যদি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করেন, তবে পুরো দেশের জেন জি দিল্লিতে যাবে। সেখানে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ হবে, এবং এর মাধ্যমেই তিনি ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির ডাক দেন।

সিজিপি-র প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, সরকার কতটা অযোগ্য যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যন্তর মন্তর আন্দোলনের মাত্র দুই মাসের মাথায় আমাদের আবারও বিক্ষোভ করতে হচ্ছে। একই সাথে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির আসল উদ্দেশ্য হলো ‘এক দেশ, এক নির্বাচন, এক দল’।

ডিপকে জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তাদের এই আন্দোলন শুরু করার জন্য তারা মহারাষ্ট্রকে বেছে নিয়েছেন কারণ কথিত ভোট জালিয়াতির অনিয়মগুলো এই রাজ্য থেকেই শুরু হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, গত দুই বছরে ১৩ কোটি ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৯৭ কোটি নিবন্ধিত ভোটার ছিল এবং এনডিএ ও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মধ্যে জয়ের ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশ ছিল বলে জানান তিনি।

ডিপকে অভিযোগ করেন, এই ব্যবধান বাড়িয়ে তোলার জন্যই নির্বাচনের মাত্র ১৫ দিন আগে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনেও ভোটার তালিকায় ৪০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত করে বিজেপি নির্বাচন চুরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

দিল্লির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আপ নেতা অরবিন্দ কেজরওয়ালের বিধানসভা কেন্দ্রেই ৪০,০০০ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি ৪,০০০ ভোটে হেরে যান। তামিলনাড়ুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রায় এক লাখ ভোটার বাদ পড়েছিল এবং তিনি ১০ হাজার ভোটে হেরে যান। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকাতেও ভোটারদের নাম কেটে দেওয়ার কারণে তাকে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল বলে সিজিপি নেতা অভিযোগ করেন।

বিজেপি সমর্থকদের এই যুক্তির জবাবে যে বিরোধী দলগুলো তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও ঝাড়খণ্ডে জিতেছে (তাই নির্বাচন সুষ্ঠু), ডিপকে বলেন, যখন ম্যাচ ফিক্স করা হয়, তখন সব বল নো-বল হয় না এবং সব ক্যাচও ড্রপ করা হয় না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপি-কে ভাঙার মধ্য দিয়ে শুরু করে বিজেপি আঞ্চলিক দলগুলোকে সম্পূর্ণ শেষ করে দেয়ার চেষ্টা করছে এবং একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনাকে একটি শেল কোম্পানি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।