শুক্রবার

২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে ভারতে বিক্ষোভ, আটক ৭০০

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪১

শেয়ার

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে ভারতে বিক্ষোভ, আটক ৭০০
ছবি সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও রয়েছেন।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়ম এবং অনেক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা এ বিক্ষোভের উদ্যোগ নেন। এতে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) ও ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) সদস্যরাও রয়েছেন।

সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা, ১৬৩ ধারা জারি

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছে। এর আওতায় পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, পিকেটিং ও ধর্না নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্লোগান দেওয়া এবং জনসমক্ষে বক্তৃতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতেই যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

এসএফআই সদস্যসহ এএপি নেতাদের আটক

পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ৭০০ এসএফআই সদস্যকে অশোকা রোডের একটি গোলচত্বরে আটকে দেওয়া হয়। পরে তাদের অনেককে আটক করা হয়।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নর্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় এএপির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংকেও বিক্ষোভস্থলের দিকে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা ও আতিশিও রয়েছেন। এ ছাড়া এআইএসএ, এসএফআই ও এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।

ব্যারিকেড, অতিরিক্ত পুলিশ ও মাইকিং

বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে সেখানে ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ফিরোজ শাহ রোডে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের যন্তর মন্তরের দিকে যেতে বাধা দেয়।

পুলিশ সদস্যরা মাইকিং করে বারবার মানুষকে যন্তর মন্তরে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সেখানে কোনো ধরনের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এদিকে বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করায় দিল্লি মেট্রোর মধ্য দিল্লির কয়েকটি স্টেশনে সাময়িকভাবে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।