শুক্রবার

২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

কড়া হুঁশিয়ারি পুতিনের, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩৭

শেয়ার

কড়া হুঁশিয়ারি পুতিনের, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত
ছবি সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সরাসরি হামলা হলে রাশিয়া হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোতে ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের বার্ষিক সভায় দেওয়া বক্তব্যে পুতিন এসব কথা বলেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পুতিন বলেন, রাশিয়া এমন এক শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে, যার আকার তাদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তাই এই লড়াইয়ে রাশিয়াকে নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাগুলো কাজে লাগাতে হবে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে রাশিয়া পুরোপুরি অবগত বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে রাশিয়ার কাছে এমন অস্ত্র রয়েছে, যা অন্য কারও কাছে নেই বলে দাবি করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

তিনি অবশ্য বলেন, রাশিয়া কাউকে হুমকি দিচ্ছে না। পশ্চিমা নেতারা ২০২৯ বা ২০৩০ সালে রাশিয়া যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, মস্কোর বক্তব্য তারই জবাব।

কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পারমাণবিক সতর্কবার্তা

পুতিনের বক্তব্যের আগে ন্যাটোর কাছে রাশিয়া একটি কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে। সেখানে সতর্ক করা হয়েছে, ন্যাটো যদি কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে, তাহলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্যও প্রস্তুত থাকবে।

রাশিয়ার এই সতর্কবার্তায় কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে ন্যাটোর ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে মস্কোর গভীর উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার বাল্টিক অঞ্চলের একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড বা এক্সক্লেভ। আয়তনে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের চেয়ে কিছুটা বড়।

মস্কোর অভিযোগ, কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো। তবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে সামরিক জোটটি। ন্যাটোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। একইসঙ্গে মস্কোকে পারমাণবিক হুমকি দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

হাইব্রিড যুদ্ধ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সরকার রাশিয়ার বিরুদ্ধে মহাদেশজুড়ে অন্তর্ঘাত ও অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাইব্রিড যুদ্ধ জোরদারের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে পোল্যান্ড ও বাল্টিক অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে পোল্যান্ড জানিয়েছে, কালিনিনগ্রাদের কাছাকাছি তাদের ভূখণ্ডে একটি রুশ হেলিকপ্টার ঢুকে পড়েছিল। লিথুয়ানিয়াও জানিয়েছে, রাশিয়ার কারণে তাদের জনগণ নিয়মিত হুমকির মধ্যে রয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস গত বৃহস্পতিবার বলেন, তার দেশ আরও হাইব্রিড হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে গুরুতর হামলাও থাকতে পারে। গত আগস্টে ইউক্রেনের পণ্যবাহী উড়োজাহাজের কাছাকাছি লাইপজিগ বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।

রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একইসঙ্গে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে শুরু হওয়া পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্যও পশ্চিমাদের দায়ী করেছেন পুতিন। তার দাবি, রাশিয়াকে উসকানি দেওয়া হয়েছিল এবং নিজেদের রক্ষায় মস্কোকে অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগরে রুশ জাহাজে হামলার প্রসঙ্গ তুলে পুতিন বলেন, রাশিয়া এখন ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে যে হামলা চালাচ্ছে, তা এসব হামলার সরাসরি জবাব। তার ভাষ্য, এখন চারদিক থেকে রাশিয়াকে থামার কথা বলা হচ্ছে, অথচ শুরুটা অন্য পক্ষই করেছে।

উত্তেজনা বাড়লে ফেরার সুযোগ থাকবে না: পুতিন

বৃহস্পতিবার ভালদাই বৈদেশিক নীতি ফোরামে দেওয়া দীর্ঘ বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সংঘাতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে সতর্ক করেন পুতিন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত ও অপ্রত্যাশিতভাবে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন আর কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।

রুশ প্রেসিডেন্টের মতে, একের পর এক কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এমন একটি চূড়ান্ত পরিণতি তৈরি হতে পারে, যেখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।

পুতিন বলেন, এই উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে ঔদ্ধত্য ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কাজ করছে। তার মতে, এ ধরনের পথ মানুষকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে যায়। বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর হাতে এমন অস্ত্র রয়েছে, যা সব প্রাণ ধ্বংস করতে সক্ষম অথবা পৃথিবীকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। এসব অস্ত্র কখনোই ব্যবহার হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুদ্ধের স্বয়ংক্রিয়ীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনের কারণে যুদ্ধ অনেকটা খেলায় পরিণত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন পুতিন। তার মতে, এর ফলে মানবতা অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে এবং আবারও বর্বরতার দিকে ফিরে যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।