ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিল্লি ও মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র, যুব ও নাগরিক সংগঠন। বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির পুরো নয়াদিল্লি এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করেছে পুলিশ এবং যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে শুক্রবার অবস্থান-বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হলেও পুলিশ এর অনুমতি দেয়নি। ১৬৩ ধারা জারি করে যন্তর মন্তরসহ পুরো নয়াদিল্লি এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যন্তর মন্তরে বিপুল পুলিশ মোতায়েন
শুক্রবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাফ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামানও। তিন মাস আগে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের সময়ও যন্তর মন্তর রোড ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল।
তবে এসএফআই সভাপতি আদর্শ এম সাজি এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরা জানিয়েছেন, তারা শুক্রবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন। পুলিশ জানিয়েছে, কোনো ধরনের জমায়েত, স্লোগান, বক্তৃতা বা বিক্ষোভ হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ কনট প্লেস, পটেল চক, তলস্তয় মার্গ এবং সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে যন্তর মন্তরের আশপাশের ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানপথও বন্ধ রাখা হয়েছে।
মুম্বাইয়ে সিজেপির জেল ভরো কর্মসূচি
শুক্রবার মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির জেল ভরো আন্দোলন শুরুর কথা রয়েছে। তবে মহারাষ্ট্র পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের যুক্তি, বোম্বে হাইকোর্টের ২০১৩ সালের নির্দেশ অনুযায়ী শিবাজি পার্কে সাধারণভাবে কোনো জমায়েত নিষিদ্ধ।
তবে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, মুম্বাইয়ে তারা আন্দোলন করবেন।
পরবর্তী সময়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়ায় জেল ভরো কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। দীপকে জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষে তারা আবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে নামবেন। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইন্ডিয়া জোটের গণতন্ত্র বাঁচাও কর্মসূচি
এদিকে বিজেপিবিরোধী জোট ইন্ডিয়াও শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় গণতন্ত্র বাঁচাও কর্মসূচি শুরু করছে। ৬ অক্টোবর বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ৮ অক্টোবর জেলা পর্যায়ে গণতন্ত্র বাঁচাও পদযাত্রা এবং জেলা শাসকদের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:







