এক মুহূর্তের বিস্ফোরণ… আর তাতেই ধুলোয় মিশে গেল শত শত মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়স্থল। মিয়ানমারের পশ্চিমের রাজ্য রাখাইনে আবার নেমে এসেছে আকাশ থেকে ঝরে পরা এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলা।
হামলার বিবরণ
স্থানীয় কিয়াউকতাও শহরের এক ব্যস্ত সকালে, যখন সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন কেনাকাটায় ব্যস্ত—ঠিক তখনই হামলা চালায় জান্তা সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান। লক্ষ্যবস্তু? কোনো সামরিক ঘাটি নয়; বরং একটি জনবহুল বাজার, পাশের স্কুল এবং সাধারণ আবাসিক এলাকা। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ বের করে আনছে, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫০ ছাড়িয়েছে।
নিহত ও আহত
আর নিহতদের তালিকায় রয়েছে অবুঝ শিশু এবং নারীরাও। চিকিৎসাধীন অন্তত ৫৮ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। উদ্ধারকর্মীদের মতে, ধসে পড়া কংক্রিটের নিচে এখনো অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারে—ফলে মৃত্যুর এই মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা স্পষ্ট।
আরাকান আর্মির প্রতিক্রিয়া
বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র মুখপাত্র খাইন থু খা এই হামলাকে “গণহত্যার শামিল” বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, স্থলযুদ্ধে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জান্তা বাহিনী এখন ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য বানাচ্ছে। এই বর্বর বোমাবর্ষণের ‘কঠোর ও উপযুক্ত’ জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আরাকান আর্মি।
জান্তার নীরবতা
আর, এই হত্যাকাণ্ডের পর জান্তা সরকারের মুখপাত্রের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও এর আগের একাধিক ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী দাবি করে এসেছিল—তারা নাকি বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম পালন করে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে প্রাণ গেছে প্রায় এক লাখ মানুষের, বাস্তুচ্যুত ৩৫ লাখেরও বেশি। এছাড়াও, গত ডিসেম্বরে একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় ৩০ জন নিহতের পর, রাখাইনে এটাই জান্তা বাহিনীর চালানো সবচেয়ে বড় নৃশংসতা।
আরও পড়ুন:







