থাইল্যান্ডে টানা ভারী বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় ৫০টি জেলার সবকটিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্যোগপূর্ণ এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বন্যায় দেশটির অন্তত ৪১টি প্রদেশ প্লাবিত হয়েছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বা গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি পরিবার।
রাজধানী ব্যাংককে পরিস্থিতি সবচেয়ে করুণ রূপ নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রায় ৬ হাজার অধিবাসীকে নিরাপদ আশ্রয় ও বিভিন্ন ইভাকুয়েশন সেন্টারে সরিয়ে নিয়েছে।
ব্যাংককে বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বাথ বা প্রায় ৪ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চলমান বন্যায় থাইল্যান্ডের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, শিল্প এবং কৃষি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রংসিট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বিশ্লেষক আত পিসানওয়ানিচ জানান, বন্যার কারণে চলতি বছরে থাইল্যান্ডের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। এতে দেশটির চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে বিশেষ নৌকা ও ভাসমান রান্নাঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানির তীব্রতার কারণে কয়েক হাজার অধিবাসী ঘরবাড়ি ছেড়ে বের হতে পারছেন না। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে সার্বিক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিথিপুন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, সোমবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সড়কে যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ব্যাংকক পোস্ট
আরও পড়ুন:







