ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার বড় ধরনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৮০ জনের বেশি। সোমবার রাজধানী কিয়েভের কেন্দ্রস্থলসহ বিভিন্ন শহরের বেসামরিক স্থাপনা ও বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্যতম তীব্র ও ধারাবাহিক এ আক্রমণ চালানো হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কিয়েভের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ ভবনে একটি রুশ ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে। এতে দুজন নিহত হন এবং ভবনটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণে অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। তাঁদের উদ্ধারে জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীতে একাধিক হামলায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।
কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলার পর একটি ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, এবার আগের চেয়ে অনেক দ্রুতগতির ও উঁচুতে উড়তে সক্ষম জেট-চালিত ড্রোন ব্যবহার করেছে মস্কো। ইউক্রেনের আকাশসীমায় ছোড়া ১২০টি ড্রোনের মধ্যে ৯০টিই ছিল জেট-চালিত।
এসব ড্রোন প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৫৭ শতাংশ ড্রোন ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। নতুন এই প্রযুক্তি মোকাবিলার পথ খুঁজছে কিয়েভ।
হামলার পর আতঙ্কে হাসপাতালের সামনে দিয়ে ছুটছেন এক বাসিন্দা। ছবি: এপি
এদিকে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেছেন, মস্কো তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তৎপরতা জোরদার করেছে। রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইতিমধ্যে আট হাজার উত্তর কোরীয় সেনা অবস্থান করছে এবং আরও ১০ হাজার সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তবে নতুন করে সেনা নিয়োগ ও সমাবেশের এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
হামলার জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও দুটি সমরাস্ত্র কারখানায় সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
আরও পড়ুন:







