মঙ্গলবার

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

তীব্র ছাত্র আন্দোলনে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বুচিসের পদত্যাগ

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:১০

শেয়ার

তীব্র ছাত্র আন্দোলনে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বুচিসের পদত্যাগ
ছবি সংগৃহীত

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র রক্তক্ষয়ী আন্দোলন আর লাগামহীন দুর্নীতির ক্ষোভের মুখে অবশেষে পতন ঘটলো সার্বিয়ার রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের। লাখো জনমানুষের তীব্র প্রতিবাদের মুখে নতি স্বীকার করে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার বুচিস।

বিদায়ী ভাষণে দাবি

দীর্ঘ নয় বছর ধরে শক্ত হাতে দেশ শাসন করা এই রাজনীতিবিদের বিদায়টা অবশ্য মোটেও সাধারণভাবে ছিল না। রাজধানী বেলগ্রেডে সমবেত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণে তিনি দাবি করেন, তার দীর্ঘ শাসন আমলে সার্বিয়ায় শান্তি, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থায়িত্ব বজায় ছিল।

নোভি সাদ দুর্ঘটনা থেকে গণজাগরণ

বুচিসের এই আপাত শক্ত ক্ষমতার ভিত প্রথম বড় ধাক্কা পায় ২০২৪ সালে। নোভি সাদ শহরের একটি রেল স্টেশনের ছাদ ভেঙে পড়ে প্রাণ হারান অন্তত ১৬ জন নিরপরাধ মানুষ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রকাশ পায় সংস্কার কাজের ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর। অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগের আঙুল সরাসরি ওঠে স্বয়ং বুচিস সরকারের দিকে।

এরপরের ইতিহাস শুধুই গণজাগরণের। রাজপথে নেমে আসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ। সময়ের সাথে সাথে স্থানীয় ক্ষোভ রূপ নেয় সরকার পতনের এক দফা দাবিতে।

আন্দোলন দমাতে সরকার বারবার মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং পুলিশের নজিরবিহীন দমন-পীড়ন চালিয়েও ছাত্র-জনতার অদম্য আন্দোলনকে চেপে রাখতে পারেনি। রাজপথের এই অদম্য স্পৃহাই শেষ পর্যন্ত বুচিসকে পদত্যাগে বাধ্য করে।

প্রধানমন্ত্রী পদে লড়ার কৌশল

তবে পদত্যাগ করলেও রাজনীতির ময়দান থেকে একেবারেই সরে দাঁড়াচ্ছেন না বুচিস। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী পরপর তিনবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার কোনো আইনি সুযোগ না থাকায়, তিনি এবার হাঁটছেন ভিন্ন কৌশলে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিজের দল ‘সারবিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি’ থেকে তিনি লড়াই করবেন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ও ক্ষমা

এদিকে, সার্বিয়ার রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতে সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন বর্তমান স্পিকার আনা ব্রনাবিচ। তবে ক্ষমতা ছাড়ার একেবারে শেষ মুহূর্তে নিজের বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। সার্বিয়ার উত্তাল আন্দোলনে অভিযুক্ত ২৩ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৯ জনকে এক বিশেষ ক্ষমাবলে মুক্তি দিয়ে গেছেন তিনি।

আগামী নির্বাচন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা

সার্বিয়ার নতুন ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সময় এখন মাত্র তিন মাস। সংবিধান মেনে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই মহা-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ পার্টির মুখোমুখি প্রধান শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়াচ্ছে আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি তরুণদের সংগঠন ‘স্টুডেন্ট উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থী শক্তিশালী জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আর অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের সাথে সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে দেশ চালিয়েছেন আলেকজান্ডার বুচিস। সার্বিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই ঝড় এখন বলকান অঞ্চলের রাজনীতিকে কোন সমীকরণের দিকে নিয়ে যায়, আন্তর্জাতিক মহল এখন যেন তারই অপেক্ষায়।