সোমবার

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

ধ্বংসস্তূপে ভারত-নেপাল প্রাণ গেল ৭০ জনের

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০০

আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০২

শেয়ার

ধ্বংসস্তূপে ভারত-নেপাল প্রাণ গেল ৭০ জনের
ছবি সংগৃহীত

প্রকৃতির রোষানলে আবারও বিপর্যস্ত জনজীবন। আকাশভাঙা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ভারত ও নেপালে নেমে এসেছে এক ভয়াল মৃত্যুর ছায়া। চোখের পলকেই ঝরে গেছে অন্তত ৭০টি তাজা প্রাণ।

ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রলয়

ভারতের উত্তর প্রদেশে যেন রীতিমতো প্রলয় ঘটে গেছে। পরিসংখ্যানে তাকালে চমকে উঠতে হয়। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর), যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কথা ছিল মাত্র ৭.৬ মিলিমিটার, সেখানে আকাশ উজাড় করে ঝরেছে ৬৬.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি।

এই অস্বাভাবিক বৃষ্টি আর বন্যায় রাজ্যটিতে প্রাণ গেছে ৫৬ জনের, আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ১ হাজারের বেশি বসতবাড়ি। রাজ্যের ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ জানিয়েছেন, জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতেও দেয়া হয়েছে কড়া নির্দেশ।

নেপালে ভয়াবহ পরিস্থিতি

অন্যদিকে, প্রতিবেশী নেপালের চিত্রটা বেশ ভয়াবহ। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু এবং ১১ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কিন্তু, বিপদ এখনো কাটেনি। নেপালের ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতেই জারি করা হয়েছে আকস্মিক বন্যার চরম সতর্কতা। ফুঁসছে প্রধান ও শাখা নদীগুলো। মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং এই চার জেলায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। রাহু গঙ্গা নদীর রুদ্রমূর্তি গিলে খেয়েছে একটি ৪০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো। অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পুরো দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও।

পূর্ববর্তী বন্যার ক্ষত এখনো দগদগে

এর আগে, গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় নেপালে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ, যার ক্ষত আজও দগদগে। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন কর্তৃপক্ষ বলছে, যদিও গতবারের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকেট এলাকা এবার বড় ঝুঁকিতে নেই, কিন্তু বিপদের রূপ এবার ভিন্ন।

মানাংয়ে তুষারধসের আঘাত

উত্তরাঞ্চলের মানাং জেলায়, ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে আঘাত হেনেছে এক প্রলয়ংকরী তুষারধস। বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের সময় নিখোঁজ হয়েছেন ১০ জন স্থানীয় কর্মী। যদিও স্বস্তির খবর হলো, সেখানে সেসময় কোনো বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন না।

একদিকে বন্যার আগ্রাসন, অন্যদিকে পাহাড় ও তুষারধসের আতঙ্ক। প্রকৃতির এই নির্মম খামখেয়ালিপনায় বারবার অসহায় হয়ে পড়ছে মানুষ। চরম এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারত ও নেপালের হাজারো প্রাণ।