ভারতের মুম্বাইয়ে শিবাজী পার্কে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার পর ২ অক্টোবর ‘জেল ভরো আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছে ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)। তরুণদের এই প্ল্যাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত মুম্বাইয়ে এই আন্দোলন শুরু হবে। পরে তা দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। খবর দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
শিবাজী পার্কে সমাবেশের অনুমতি মেলেনি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ২ অক্টোবর শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল সিজেপি। তবে মুম্বাই হাইকোর্টের ২০১৩ সালের একটি আদেশের কথা উল্লেখ করে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মুম্বাই পুলিশ জানায়, শিবাজী পার্ক কেবল ক্রীড়া সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে।
পুলিশ আরও জানায়, সেখানে কর্মসূচি হলে আবাসিক এলাকায় ‘শব্দদূষণ’ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আশপাশে বেশ কয়েকটি বড় হাসপাতাল থাকায় বিক্ষোভের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়ে রোগী পরিবহনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
মুম্বাই পুলিশের এই অবস্থানের জবাবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের গত জানুয়ারিতে একই স্থানে একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার ভিডিও শেয়ার করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিন্দে কীভাবে ওই স্থানে অনুষ্ঠানের অনুমতি পেয়েছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তির দাবি
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন (এসআইআর) সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তে ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী এসআইআর-সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত তাদের না জানিয়েই নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানান।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি।
গান্ধী জয়ন্তী থেকে আন্দোলনের ঘোষণা
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিজেপি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হবে।
তখন অভিজিৎ দীপকে বলেছিলেন, ‘চলুন, এই গান্ধী জয়ন্তীতে আমরা গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার করি।’
তিনি জানিয়েছিলেন, আন্দোলন মুম্বাই থেকে শুরু হয়ে পরবর্তীতে ভারতের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:







