স্লোগানের গর্জনে থমকে গেছে ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী বন্দরনগরী লিভারপুল। প্ল্যাকার্ড আর মিছিলে উত্তাল রাজপথ এখন পরিণত হয়েছে এক বিশাল প্রতিবাদী জনসমুদ্রে। লক্ষ্য একটাই, ডাউনিং স্ট্রিটের নীতিনির্ধারকদের কানে পৌছে দেয়া গাজার নিপীড়িত মানুষের আকুতি।
সময়সীমা বেছে নেয়া
কাকতালীয় কোনো ঘটনা নয়, এই বিক্ষোভের সময়সীমা বেছে নেয়া হয়েছে অত্যন্ত কৌশলে। ভেতরে যখন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নীতিনির্ধারকরা জড়ো হয়েছেন তাদের বার্ষিক সম্মেলনে, ঠিক তখনই বাইরে তৈরি হয়েছে প্রতিরোধের এক ইস্পাতকঠিন প্রাচীর।
দাবি স্পষ্ট ও আপসহীন
রাজপথে নামা এই মানুষদের বার্তা স্পষ্ট ও আপসহীন। তাদের মূল দাবি, ইসরাইলকে যেকোনো ধরনের মারণাস্ত্র সরবরাহ করা ব্রিটেনকে অবিলম্বে থামাতে হবে। কোনো কূটনৈতিক ছলচাতুরি নয়, চায় তাত্ক্ষণিক ও পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত কিছুদিন আগে পশ্চিম তীরের নির্দিষ্ট কিছু চরমপন্থী ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীর ওপর ভ্রমণ ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ব্রিটিশ সরকার।
তবে আন্দোলনকারীরা একে বলছেন 'সাময়িক চোখ ভুলানো আইওয়াশ'। তাদের পরিষ্কার দাবি—আইন লঙ্ঘনকারী নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী নয়, বরং পুরো ইসরাইল রাষ্ট্রের ওপরই চাপাতে হবে সর্বাত্মক অবরোধ।
লেবার পার্টির সম্মেলনে চাপ
সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর লেবার পার্টির সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম দলের বার্ষিক সম্মেলন। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মুহূর্তটিতেই ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ স্পষ্ট জানিয়ে দিলো, কূটনৈতিক নীরবতার দিন শেষ। রাজপথের এই চাপ এখন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ নীতিতেও বড় ধরনের ঝাকুনি দিচ্ছে।
লিভারপুলের এই উত্তাল পদযাত্রা প্রমাণ করে, ফিলিস্তিন ইস্যু এখন আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আঘাত হেনেছে ব্রিটিশ রাজনীতির হৃদপিণ্ডে। রাজপথের এই গর্জন কি বদলাবে হোয়াইটহলের সিদ্ধান্ত? উত্তর দেবে সময়।
আরও পড়ুন:







