রবিবার

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভারত মহাসাগরজুড়ে মার্কিন জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৫১

শেয়ার

ভারত মহাসাগরজুড়ে মার্কিন জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করলে ভারত মহাসাগরজুড়ে মার্কিন জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে ইরান।

শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে আলী মোহাম্মাদি বলেন, “আরেকটি যুদ্ধ শুরু হলে আমরা নিঃসন্দেহে তাদের জাহাজ ও ডেস্ট্রয়ারগুলোতে হামলা চালাব এবং সেগুলোকে ধ্বংস করব, এমনকি ভারত মহাসাগরেও।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে ইরানের দেয়া সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। অবৈধ মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলা শুরুর প্রথম দিন থেকেই হরমুজ প্রণালি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্বের তেল চাহিদার এক-পঞ্চমাংশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কৌশলগত জলপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠা করেছে।

তবে মোহাম্মাদি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং ওমান উপসাগরে চলাচলকারী সব জাহাজ আইআরজিসি নৌবাহিনীর নজরদারির আওতায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে—এমন দাবিগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি দাবি করে যে তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে তাদের একটি যুদ্ধজাহাজ এখানে নিয়ে আসুক।”

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হরমুজ প্রণালিকে “ট্রাম্প স্ট্রেইট” নামে চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করার পর মোহাম্মাদি প্রশ্ন রাখেন, “ট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালিকে নিজের মনে করেন, তবে তাঁর যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য জাহাজ এখানে নেই কেন?”

এদিকে ইরানের স্বার্থ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে এই কমান্ডার বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় নতুন কৌশল, সরঞ্জাম ও পরিচালন পদ্ধতি গ্রহণ করে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের ফলে বিদেশি শক্তিগুলোর সামরিক উপস্থিতি কমে আসবে এবং শেষ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরকে আধিপত্যবাদী শক্তিমুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।