শনিবার

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

মণিপুরে সন্দেহভাজন কেএনএ-বির গুলিতে চার নাগা নিহত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৫

শেয়ার

মণিপুরে সন্দেহভাজন কেএনএ-বির গুলিতে চার নাগা নিহত
ছবি সংগৃহীত

মণিপুরের কামজং জেলায় সন্দেহভাজন কুকি ন্যাশনাল আর্মি–বার্মার (কেএনএ-বি) সদস্যদের গুলিতে চার নাগা বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাবা ও ছেলে রয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় নাগা সংগঠন ২৪ ঘণ্টার জরুরি অবরোধের ডাক দিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে পিলং নাগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সন্দেহভাজন কেএনএ-বির সদস্যরা গ্রামে প্রবেশ করে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে চারজন নিহত হন।

পিলং নাগা গ্রামটি কামজং জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফামি জাজো (৪৩), নিংথেম কাসাক (৩৫), বেটারসন জাজো (৫০) ও ভারেইশিম জাজো (৬৭)। ভারেইশিম জাজো ও ফামি জাজো বাবা-ছেলে। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁদের লাশ কামজং জেলা সদরে নেওয়া হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার অবরোধ

চার নাগা বেসামরিক নাগরিক হত্যার নিন্দা জানিয়েছে টাংখুল নাগা লং (টিএনএল)। সংগঠনটি শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে তাদের আওতাধীন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জরুরি অবরোধের ডাক দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে টিএনএলের সম্পাদক থানরেইঙ্গাম মুইভা বলেন, চার বেসামরিক নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে এ অবরোধ পালন করা হচ্ছে।

তবে বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও অগ্নিনির্বাপণসহ জরুরি পরিষেবা অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। শেষকৃত্য ও শোক প্রকাশের কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চলাচলও অবরোধের বাইরে রাখা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর উখরুল সফরের বিরোধিতা

এদিকে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংয়ের আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর উখরুল সফরের বিরোধিতা করেছে নাগা যুব সংগঠন খানুইথথট-খোন (টাংখুল নাগা যুবকদের কণ্ঠস্বর)।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর উখরুলে একটি জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও নাগা-অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর সফর পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসও) ব্যবস্থার আওতায় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অব্যাহত উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় এসব গোষ্ঠীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।

নাগা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নাগা-অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

দুই সপ্তাহে নিহত আটজন

নাগা ও কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকাসংলগ্ন জেলাগুলোতে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর তামেংলং জেলার লেইজাংফাই এলাকায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলায় দুই কুকি-জো নারী নিহত হন।

এরপর ২১ সেপ্টেম্বর তামেই ও এনকাউ এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে ১৭ বছর বয়সী এক নাগা কিশোর নিহত হন।

দুই দিন পর, ২৩ সেপ্টেম্বর তামেংলং জেলার ওয়াকোটফাই গ্রামে গুলিতে নিহত হন ৩৬ বছর বয়সী এক কুকি-জো ব্যক্তি।

ওই দিন কয়েক ঘণ্টা পর কাংপোকপি জেলার দুটি নাগা গ্রাম মাকুই খুমান ও মাকুই থানাম্বা/চামরুইওতে অন্তত ২৪টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। গ্রাম দুটি চালওয়া পুলিশ স্টেশনের প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

একই দিন বেলা ৩টার দিকে আরেকটি নাগা গ্রাম মাকুই থেব্রামে দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগের দুটি গ্রাম থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে গ্রামটির অবস্থান।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলার পর সেখানে বাড়িঘরসহ অন্তত ২৬টি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহে নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের সদস্যদের জড়িত পৃথক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা অন্তত আটজনে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস