যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস প্রধান ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অঞ্চলে পুনরায় কোনো সামরিক আগ্রাসন চালায়, তাহলে যুদ্ধের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। এর পরিধি ভারত মহাসাগর, এমনকি এর বাইরেও পৌঁছাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি যুদ্ধের ফ্রন্ট বা রণক্ষেত্র ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করে, তাহলে ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক কারণে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ ভারত মহাসাগর এশিয়া ও বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক নৌপথ।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে তেহরান।
এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের উপকূলের হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধের আগে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ইরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে এবারই প্রথম ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কোনো উপদেষ্টা সরাসরি ভারত মহাসাগরের কথা উল্লেখ করলেন। এই মহাসাগরেই ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া অবস্থিত।
যুদ্ধ বন্ধে নিউইয়র্কে আলোচনা
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনায় বসেছেন। যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির অর্থনীতির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ নিঃশর্তে মুক্ত করা।
আরও পড়ুন:







