যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন ভিসা বিধিনিষেধের নীতি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে জড়িতদের লক্ষ্য করে নীতি
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিদেশি বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং এতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে এই নীতি প্রয়োগ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা পর্যটন ভিসার অনুমোদিত উদ্দেশ্য নয়।
রুবিও বলেন, বিদেশি বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নেটওয়ার্কগুলো মুনাফার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। এসব নেটওয়ার্ক বিদেশিদের কাছে বিজ্ঞাপন দেয় এবং ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে উৎসাহিত বা পরামর্শ দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুধু মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে এসব নেটওয়ার্ক ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করে।
রুবিও বলেন, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৩)(সি) ধারার আওতায় নতুন এই ভিসা বিধিনিষেধ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।
যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
নতুন নীতিতে এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করা হয়েছে, যারা জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে যুক্ত হন, আগে যুক্ত ছিলেন অথবা এতে সহায়তা করেন। এর আওতায় থাকবেন—
১. বাণিজ্যিকভাবে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ সুবিধা দেওয়া নেটওয়ার্কের মালিক, পরিচালনাকারী ও ব্যবস্থাপক;
২. ভিসা দালাল, যারা আবেদনকারীদের জালিয়াতির কৌশল শেখান;
৩. বিদেশি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী, যারা জেনেশুনে এ ধরনের ভ্রমণে সহায়তা করেন;
৪. যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেড ব্যবস্থার জালিয়াতিমূলক ব্যবহারে সহায়তাকারী ব্যক্তিরা;
৫. বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’-কে সমর্থন, সহায়তা বা পরিচালনায় ভূমিকা রাখা অন্য ব্যক্তিরা।
রুবিও বলেন, মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষা, জনকল্যাণমূলক সুবিধা ও করদাতাদের শোষণ থেকে রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত এবং এর মাধ্যমে মুনাফা করে, তাদের উভয় পক্ষের জন্য ভিসা দেওয়া সীমিত করে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের সদস্যও এই ভিসা বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার নিয়মে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে দেশটিতে ভ্রমণকে অনুমোদিত পর্যটন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
আরও পড়ুন:







