শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে পূর্ব জাপানে ভারি বৃষ্টি, ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও চারজন। ঝড়ের কারণে বিমান, রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ৯ হাজারের বেশি পরিবার।
রোববার ও সোমবার সকালে ইজু দ্বীপপুঞ্জ এবং জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। কোথাও কোথাও ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে চিবা প্রিফেকচারের সোদেগাউরা এবং কানাগাওয়া প্রিফেকচারের ইয়োকোসুকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
ইজু দ্বীপপুঞ্জের ওশিমা দ্বীপে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন সময়ে সর্বোচ্চ স্তরের ভূমিধস সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ইজু দ্বীপপুঞ্জের উত্তরাঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকিতে সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা জারি করেছে। পাঁচ স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থায় এটি সর্বোচ্চ সতর্কতা। এ ছাড়া দ্বীপপুঞ্জের অন্যান্য এলাকা, টোকিওর কিছু অংশ এবং চিবা, কানাগাওয়া, ইবারাকি ও মিয়াগি প্রিফেকচারে চতুর্থ স্তরের সতর্কতা কার্যকর রয়েছে।
পূর্ব জাপান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (কেএইচবি-টিভি) মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে জানায়, টোকিও ও আশপাশের এলাকার ১৬ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টাইফুনের কারণে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ও জাপান এয়ারলাইনসের (জেএএল) প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু রেল ও সড়ক পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ৯ হাজারের বেশি পরিবারের।
টাইফুনের প্রভাব পড়েছে চলমান এশিয়ান গেমসেও। মধ্য জাপানের আইচি প্রিফেকচারে অশ্বারোহণের অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্ট ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল নাগাদ টাইফুন দুজুয়ান জাপানের পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে অবস্থান করছিল এবং উত্তর-পূর্ব দিকে এগোচ্ছিল। তবে দীর্ঘস্থায়ী ভারি বৃষ্টির কারণে কান্টো অঞ্চল ও ইজু দ্বীপপুঞ্জে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: কিয়োডো নিউজ, আল-জাজিরা
আরও পড়ুন:







