সোমবার

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

বিশ্বজুড়ে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সব ইরানি এয়ারলাইন্স বন্ধ: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৯

শেয়ার

বিশ্বজুড়ে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সব ইরানি এয়ারলাইন্স বন্ধ: মার্কিন অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে ইরানের সব বাণিজ্যিক এয়ারলাইনের কার্যক্রম আগামী বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

সোমবার মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিএনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে ব্যাপক ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’আরোপের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বেসেন্ট বলেন, ইরানি বিমানকে সেবা দেয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হাবগুলো মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। ইরানি বিমানকে জ্বালানি দেয়া, অবতরণের সুবিধা দেয়া কিংবা যাত্রীদের টিকিট বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন ডলার লেনদেন ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারাতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

পরিকল্পিত এ বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইরানের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানাননি।

তেহরানকে সহায়তা করা তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সতর্ক করেছেন বেসেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের হয়ে লেনদেন সহজতর করা আর্থিক মধ্যস্থতাকারীদের শনাক্ত করেছে ওয়াশিংটন।

বেসেন্ট বলেন, বিশ্বজুড়ে আমরা এমন সহযোগীদের দেখেছি। আমরা জানি তারা কারা, তারাও জানে তারা কারা। আমরা এটি বন্ধ করে দিচ্ছি।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে চীনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বেসেন্ট বলেন, বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, প্রকাশ্য প্রদর্শনের পরিবর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নীরবে ও পর্দার আড়ালে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

চীনের আর্থিক কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর প্যান গংশেংও রয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় খুব সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওয়াশিংটনের এই চাপ কতদিন এবং কতটা তীব্র থাকবে; এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি বেসেন্ট। এক সপ্তাহ, এক মাস নাকি ছয় মাস; কতদিন এ অভিযান চলবে, তা তিনি জানাননি। তবে পরিস্থিতিতে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইরান যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার হওয়ার মধ্যেই বিমান চলাচলের ওপর এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো। ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র আওতায় ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পাল্টা হামলা এবং ইরানের বাণিজ্যিক ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে।