বৃহস্পতিবার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

জিন্নাহ’র সমাধিসৌধে সগৌরবে বাংলা বর্ণমালা

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৩

শেয়ার

জিন্নাহ’র সমাধিসৌধে সগৌরবে বাংলা বর্ণমালা
ছবি সংগৃহীত

জিন্নাহর সমাধীস্থলে বাংলা বর্ণমালা; ইতিহাসে ভিন্ন রূপ। মাজার-ই কায়েদে বাংলা বর্ণমালা। করাচিতে জিন্নাহ ও শীর্ষ পাকিস্তানি নেতাদের সমাধিতে বাংলা ভাষার জয়গাথা।

জিন্নাহর ভাষণ ও বিতর্ক

১৯৪৮ সালের রবিবার (২১ মার্চ)। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে যা বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। সেদিনের জিন্নাহর বক্তব্য ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, সেদিনের ভাষণে সরাসরি বাংলা ভাষার বিরোধীতার পাশাপাশি উর্দু ভাষার পক্ষপাতিত্ব করেন জিন্নাহ। আবার, ভিন্নমতও রয়েছে। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি রুখতেই কৌশলে উর্দু রাষ্ট্র ভাষা করার প্রস্তাব করেছিলেন জিন্নাহ। কেউ কেউ বলে এমনটাও।

তবে, জিন্নাহর ওই বক্তব্যের মাধ্যমে, বাংলা ভাষা-ভাষীদের অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে, এমন ধারণাই প্রবল। কিন্তু, এই ধারণার ভুল ভাঙে স্বয়ং জিন্নাহর কবরে বাংলা বর্ণমালা স্থানের মাধ্যমে। বাংলা ভাষাবিদ্বেষী হলে জিন্নাহর কবরে বাংলা বর্ণমালা থাকতো না বলেই আলোচনা রয়েছে।

মাজার-ই কায়েদে বাংলা বর্ণমালা

পাকিস্তানের করাচির হৃদপিণ্ডে ৬১ একর জমি জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মাজার-ই-কায়েদ। ইতালীয় শ্বেত মার্বেলে নির্মিত পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর এই সমাধিসৌধ দেশটির অন্যতম জাতীয় প্রতীক।

সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড়ে ঝলমল করা এই সমাধির দেয়ালে উর্দুর পাশাপাশি সগৌরবে স্থান পেয়েছে বাংলা ভাষা। স্পষ্ট বর্ণমালায় খোদাই করা জিন্নাহর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ।

তবে জিন্নাহ একা নন; তাঁর বোন ফাতেমা জিন্নাহ, পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন এবং সাবেক মন্ত্রী সরদার আবদুর রব নিশতারের সমাধিতেও নাম ও তারিখ খোদাই করা আছে বাংলা বর্ণমালায়।

কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এই স্মৃতিসৌধে ২৪ ঘণ্টা দেয়া হয় গার্ড অব অনার। প্রতি চার মাস পরপর পালাক্রমে এই সম্মানজনক দায়িত্ব পালন করে পাকিস্তানের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী।

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ও তা ভেঙে ফেলার ঘটনায়, ইতিহাসে জিন্নাহ নতুন করে আলোচনায় আসেন। ডাকসু কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলা ভাষার প্রতি জিন্নাহর ঐতিহাসিক বিরোধিতা মনে করিয়ে দিতেই রাখা হয়েছিল সেই ছবি।

এরই মাঝে, জিন্নাহর কবরে বাংলা বর্ণমালা স্থান পাওয়ার আলোচনা, পুরো ঘটনাকেই নিয়ে গেছে ভিন্ন দিকে।