বৃহস্পতিবার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে গভীর রাতে মুসলিমদের আটকের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:১৯

শেয়ার

পশ্চিমবঙ্গে গভীর রাতে মুসলিমদের আটকের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে গত জুন থেকে অন্তত ৯ মুসলিম পুরুষ ও দুই শিশুকে বাড়ি থেকে আটক করে ডিটেনশন বা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব আটকের অধিকাংশই মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা।

গভীর রাতে অভিযান, পরোয়ানা না দেখানোর অভিযোগ

আটক ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি অভিযান গভীর রাতে পরিচালনা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রিমান্ড আদেশ কিংবা এফআইআরের কপি দেখায়নি বলেও তারা দাবি করেছেন। তাদের আরও অভিযোগ, আটকের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ উপস্থাপনের কার্যকর সুযোগ দেওয়া হয়নি।

মুর্শিদাবাদের ৬১ বছর বয়সী ইব্রাহিম শেখকে ২৯ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তার পরিবারের দাবি। পরিবার জানিয়েছে, ইব্রাহিম আধার ও ভোটার পরিচয়পত্র দেখালেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

উত্তর দিনাজপুর জেলার ৬৭ বছর বয়সী জলিল আখতারকেও বাড়ির বাইরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তার পরিবারের দাবি। পরিবার বলেছে, জলিল ভারতীয় নাগরিক এবং একাধিক নির্বাচনি ভোটার তালিকায় তার নাম রয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের ভোটার তালিকাতেও তার নাম রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। তবে পুলিশের অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

দুই শিশুসহ আবদুল জব্বারকে আটকের অভিযোগ

আবদুল জব্বারকে তার দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেসহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের দাবি, আবদুল জব্বারের ভারতীয় পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি রয়েছে। তার স্ত্রী পরে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত চারজন নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার যাচাইও সম্পন্ন করেছিলেন।

আটকের পদ্ধতি নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ

আটকের পদ্ধতি নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মুর্শিদাবাদভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটসের কর্মী জাকির হোসেনের অভিযোগ, কিছু মানুষকে আদালতে হাজির না করেই আটক রাখা হচ্ছে।

অন্তত একটি ঘটনায় পুলিশ আটক এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। ওই ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ তাকে ফিরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর অধীনে মামলা করে।

নাগরিকত্ব নির্ধারণে আইনি সুযোগ চায় পরিবারগুলো

পরিবারগুলোর প্রশ্ন, ভোটার পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জমির নথি ও অন্যান্য সরকারি কাগজপত্র থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নির্ধারণের আগে কেন তাদের কার্যকর আইনি সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করা উচিত।

পশ্চিমবঙ্গে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ ও আটক নিয়ে নজরদারি বাড়ার মধ্যে এসব ঘটনা বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অধিকারকর্মীরা ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে কতজনকে রাখা হয়েছে, তাদের আইনি অবস্থান কী এবং নাগরিকত্ব নির্ধারণে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

এসব অভিযোগ ও ঘটনাবলি প্রকাশিত অনুসন্ধানী তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটকের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বক্তব্য প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে জানা এবং তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

সূত্র: মুসলিম মিরর ও স্ক্রল ডট ইন