যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি অবকাঠামোয় পরস্পরের ওপর হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানানোর এক দিন পরই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি পেট্রল স্টেশনে ড্রোন হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো।
টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় ক্লিৎসকো জানান, ড্রোনের আঘাতে একজন আহত হয়েছেন। শহরের অন্য একটি এলাকাতেও একটি গুদাম স্থাপনায় হামলা হয়েছে।
ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ৩০০ পেট্রল স্টেশনে হামলা
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া কিয়েভের পেট্রল স্টেশনগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করেছে। গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০টি পেট্রল স্টেশনে হামলা হয়েছে। এর বেশির ভাগই সম্মুখসারির অঞ্চল বা এর আশপাশে।
পোল্যান্ডে সতর্কতামূলক সামরিক বিমান অভিযান
ইউক্রেনে রুশ হামলার সময় প্রতিবেশী পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে সামরিক বিমান অভিযান শুরু করে। পরে পোল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার সামরিক ড্রোন প্রতিবেশী দেশগুলোর আকাশসীমায় ঢুকে পড়ার ঘটনায় ন্যাটোর সীমান্তের বাইরেও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে লিথুয়ানিয়ায় একটি ন্যাটো যুদ্ধবিমান একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দেশটির জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে। এর আগে রাজধানী ভিলনিয়াস ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
রাশিয়াতেও ইউক্রেনীয় হামলার খবর
অন্যদিকে রাশিয়াতেও ইউক্রেনীয় হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী তাগানরোগে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওজোনের একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর।
সামারা অঞ্চলের একটি শিল্প স্থাপনাতেও ড্রোন হামলা হয়েছে। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে।
এসব হামলার খবর তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতিতে কিয়েভ সমর্থন দিতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনকে বিশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও তীব্র হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







