রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

বিশ্বনেতাদের চোখে ‘উন্নত ভারত’ পর্দার আড়ালে বস্তি

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৯

শেয়ার

বিশ্বনেতাদের চোখে ‘উন্নত ভারত’ পর্দার আড়ালে বস্তি
ছবি সংগৃহীত

একদিকে ঝলমলে দিল্লি। আলোকসজ্জা, রঙ-বেরঙের লাইটিং, আতশবাজির ঝলকানি আর চোখধাঁধানো আয়োজনে ভারতের নয়াদিল্লির মহাসড়কগুলো যেন মোড়ানো আলোর চাদরে। অন্যদিকে, ঠিক সেই পর্দার ওপাশেই লুকিয়ে আছে ঝুপড়ি, ময়লা, দারিদ্র্য আর বেঁচে থাকার নির্মম বাস্তবচিত্র।

বিশ্বনেতাদের আগমনে বস্তি ঢাকা

সমালোচনা রয়েছে, সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ও রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চলমান ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় বড় নেতাদের আগমন উপলক্ষে, তাদের চোখ থেকে ভারতের দারিদ্র্যকে আড়াল করার লক্ষ্যে পুরো রাজপথের আশপাশের বস্তিগুলোকে রাতারাতি কাপড়ের পর্দায় ঢেকে দেয়া হয়েছে। যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চিত্র ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ভারতজুড়ে সৃষ্টি হয় তুমুল বিতর্ক। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের মাঝেও দেখা যায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া। প্রশ্ন ওঠে—বিশ্বনেতাদের সামনে দেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার বদলে, কেনই বা সেই বাস্তবতাকেই পর্দার আড়ালে সরিয়ে রাখা হলো?

আম আদমি পার্টির কার্টুন ও প্রশ্ন

এ নিয়ে ভারতের বিরোধী দল আম আদমি পার্টির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া একটি পোস্টকে ঘিরে শুরু হয় ভারতজুড়ে তোলপাড়। পোস্টে একটি কার্টুনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় দিল্লির বর্তমান অবস্থা—যেখানে উন্নয়নের ঝকঝকে ছবি আর বাস্তবতার মলিন চিত্র যেন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।

কার্টুনে দেখা যায়, একটি আয়নার উপরে লেখা ভিশন ২০৪৭। আর সেই আয়নার ভেতরে ঝকঝকে দিল্লি, উন্নয়নের ছবি আর ভারত মণ্ডপমের চিত্র। অপরদিকে, আয়নার বাইরে পড়ে আছে বস্তি, আবর্জনা আর ঝুপড়িঘরের বাস্তবতা।

ভারত যখন বলছে ভিশন ২০৪৭-এর কথা, তখন আয়নার উপরে ভিশন ২০৪৭ লিখেই আম আদমি পার্টি যেন সামনে এনেছে সেই প্রশ্নই—২০৪৭-এর উন্নত ভারত যদি সত্যিই সামনে থাকে, তাহলে ২০২৬-এর ভারতের দারিদ্র্যকে এখনই কেন পর্দার আড়ালে রাখতে হচ্ছে?

জি-২০-এর পুনরাবৃত্তি

এর আগেও এমন দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে দিল্লিবাসী। সমালোচনা রয়েছে, ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনকে ঘিরে সাজসজ্জা আর সৌন্দর্যবর্ধনের তোড়জোড়ের মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বস্তি, ময়লা-আবর্জনাময় এলাকা অস্থায়ী পর্দা, সবুজ শিট ও শেড দিয়ে আড়াল করা হয়েছিল। এ নিয়ে সে সময়ই জন্ম নেয় নানা আলোচনা-সমালোচনার।

বিশ্ব বদলেছে, বদলেছে বিশ্বনেতারাও—কিন্তু বদলায়নি পর্দার আড়ালে থাকা বস্তির গল্পটা। তিন বছর পর আরেকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঠিক একই চিত্র। প্রশ্ন উঠছে—উন্নয়ন কি মানুষের জীবনে, নাকি শুধু ক্যামেরার ফ্রেমে?