অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দেশ তিনটি যৌথভাবে এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। কূটনৈতিকভাবে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে বলেন, অবিচার ও মানুষের দুর্দশার বিষয়ে শুধু মৌখিক প্রতিবাদ করে বসে থাকবে না লন্ডন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে এখন সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
দ্বিরাষ্ট্র সমাধান রক্ষায় সরাসরি পদক্ষেপের কথা যুক্তরাজ্যের
মিলিব্যান্ড বলেন, চুপচাপ দাঁড়িয়ে মানুষের আরও দুর্দশা এবং দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ধ্বংস হতে দেখার নীতি থেকে যুক্তরাজ্য সরে এসেছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে নিয়ে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সমর্থক হলেও ইসরায়েল এর বিরোধিতা করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারত্ব সম্পূর্ণ অবৈধ। লন্ডনের বিশ্বাস, পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে।
ইসরায়েলের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
তিন দেশের নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে ইসরায়েলের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ তেল আবিবে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। আর জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কনস্যুলেটটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন।
বাণিজ্যে প্রভাব সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা
যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে বছরে প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্য হলেও নতুন নিষেধাজ্ঞার সামগ্রিক প্রভাব খুব বেশি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে উৎপাদিত পণ্য এবং পশ্চিম তীরের বসতিতে উৎপাদিত পণ্য কীভাবে আলাদা করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে যাওয়া পণ্যের বড় অংশ কৃষিপণ্য ও ওয়াইন। ইসরায়েলের মোট বাণিজ্যের তুলনায় এসব পণ্যের পরিমাণও সামান্য। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ই–ওয়ান প্রকল্প ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
নিষেধাজ্ঞার পেছনে অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় জেরুজালেমের কাছে পশ্চিম তীরে থাকা ‘ই–ওয়ান’ বসতি প্রকল্প। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য প্রস্তাবিত এলাকায় প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিলিব্যান্ডের মতে, ই–ওয়ান প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তবে একই দিনে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে আরও এক হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে।
আরও পড়ুন:







